নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ তাদের তাণ্ডবে প্রাণ গেছে বন্দরের দুই শিক্ষার্থীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারিবারিক সচেতনতার অভাবেই এসব গ্যাংয়ের সৃষ্টি। নাম না প্রকাশের শর্তে কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্য জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদতে কিশোর গ্যাং মূলত বেপরোয়া হয়ে উঠে। কারণ গ্যাং সদস্যদের প্রাথমিকভাবে বড় অপকর্ম করার সাহস থাকে না। কিন্তু প্রভাবশালী নেতারা যখন তাদের প্রশ্রয় দেয় তখন তারা ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে উঠে। আর এভাবে গ্যাংগুলো মারাত্মক অপকর্ম করে থাকে। সবশেষ গত সোমবার বন্দরের ইস্পাহানি ঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়ায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট ফতুল্লার গাবতলীতে ঘটে আরেক ঘটনা। সেদিন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় , এক কিশোর বড় একটি ছোরা নিয়ে একটি গলি থেকে উত্তেজিত অবস্থায় বের হয়ে আসে। সঙ্গে ছিল অনুগামী আরো কয়েক জন। কয়েক মিনিট পর আবারও ঐ কিশোর অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে গলিতে ফিরে যায় । কাউকে ধাওয়া করার জন্যই মূলত ঐ অবস্থান নেয় তারা। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের এক কিশোরের মা ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগ, হত্যার উদ্দেশ্যে ওপরে উল্লেখিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার ছেলেকে ধাওয়া করে। এ সময়ে প্রতিপক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
জানা গেছে, গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ব উল্লেখিত ছুরি নিয়ে বের হওয়া কিশোরকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে শহরের বিভিন্ন স্থানে। তারই সূত্র ধরে ফতুল্লায় অস্ত্র ও গুলিসহ নারী পোশাক শ্রমিকদের নিয়মিত উত্ত্যক্তকারী গ্যাংস্টার গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে আটক করে র্যাব-১১।
গত বছরের ৬ নভেম্বর দুপুরে এ তথ্য জানান র্যাব ১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন। তাদের দেহ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, ১২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও পাঁচটি রামদা। ২৪ অক্টোবর র্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল ফতুল্লা থানাধীন উত্তর ইসদাইর গাবতলী এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নারীদের উত্ত্যক্তকারী গ্যাংস্টার গ্রুপের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে।
কিশোর গ্যাং সদস্যদের নৃশংস হামলায় অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। গত ৩ অক্টোবর পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মোবাইল ফোনসেট ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেয় বন্দরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। ৪ আগস্ট বন্দরের অলিপুরা কবরস্থান এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করে তিন কিশোর। ৩১ জুলাই ফয়সাল নামে কিশোর শহরের খানপুর বরফকল এলাকায় বান্ধবীর মোবাইল ফিরিয়ে দিতে গেলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পাঁচ কিশোর।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, কিশোর অপরাধীরা যতবড় রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারেই থাকুক না কেন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর অপরাধীদের প্রতিহত করতে পুলিশ মাঠে নেমে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। অচিরেই জেলাব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।
ইত্তেফাক/এসআই
