হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার ‘দুর্যোগসহনীয় বাসগৃহ’ দেওয়ার কথা বলে দুইজন দিনমজুরের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান উরফে দুলাল মেম্বার। তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার ১০নং যোগানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড গেরামারা গ্রামের ইউপি সদস্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি একটি ঘরে থাকেন গেরামারা গ্রামের হতদরিদ্র আ: হাকিম। প্রায় বছর খানেক আগে হাকিম প্রতিবেশি দুলাল মেম্বারের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বিনামূল্যে সরকারি একটি ঘর বরাদ্দ চান। এ সময় দুলাল মেম্বার ঘরের বরাদ্দ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ঘরের আশায় একটি এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা লোন এনে মেম্বারে হাতে তুলে দেন হাকিম। বছর পেরিয়ে গেলেও ঘরের দেখা পায়নি হাকিম। একিই অবস্থা একিই এলাকার দোলা মিয়ারও। তিনিও সরকারি ঘর পাওয়ার আশায় ২০ হাজার টাকা দেন দুলাল মেম্বারকে। দুজনের কাছ থেকে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেন মেম্বার দুলাল।
ভুক্তভোগীরা পরে খোজঁ নিয়ে জানতে পারেন, সরকারি ঘর বরাদ্দ তো দূরের কথা তালিকায় নামই ওঠেনি তাদের। আ: হাকিম ও দোলা মিয়া সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গেরামারা গ্রামে পরিদর্শনে যান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দুলাল ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে ওই দুই হতদরিদ্রের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন। অভিযোগ রয়েছে দুলাল মেম্বার ৮০ হাজার থেকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন সরকারি ঘর বরাদ্দে দেয়ার কথা বলে।
ইত্তেফাক/এএম

