নারায়ণগঞ্জে অবৈধ যানবাহনের নৈরাজ্য

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১৮:৩৫

নারায়ণগঞ্জ শহরে এখন অবৈধ যানবাহনের দাপটে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিনা বাধায় শহরের সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, লেগুনা। বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। 

শহরের যত্রতত্র চলছে যাত্রী উঠানামা। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তবে এসব রোধে প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জবাসী যানজটে ভুগলেও করোনা পরিস্থিতির আগে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, অবৈধ যান চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড, দিনের বেলা পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলসহ নানা করণে শহরে যানজট লেগেই থাকছে। সড়কের এই নৈরাজ্য দমনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে যানবাহন চলাচলে শিথিলতা থাকাতে কয়েক মাস সড়কের নৈরাজ্য চোখে পড়েনি।  মার্কেটগুলো খুলে দেওয়ার পর শহরের ফাঁকা সড়কগুলোতে বিনা বাধায় চলাচল করেছে অবৈধ ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা। করোনা পরিস্থিতির কারণে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তুলনামূলক কম যানবাহনের উপস্থিতি ছিল শহরে। ফলে যানজটের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি নগরবাসীর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর লকডাউন তুলে নেওয়া হলে এখন সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে তখন সড়কের নিত্যদিনের ভোগান্তির চিত্র সামনে আসছে। 
লকডাউনের পরবর্তী সময় থেকে জেলার ট্রাফিক পুলিশের তেমন কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। ট্রাফিকের নিয়মিত অভিযানগুলো বন্ধ রয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকা সদস্যদেরও দেখা যায়নি কোনো কার্যক্রম। ফলে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবৈধ যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিদিন প্রবেশ করছে শতাধিক অবৈধ যানবাহন। অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে শহরে সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের জিমখানা মোড়, ডিআইটি, ২ নম্বর রেল গেইট চত্বর, গলাচিপা, ১ নম্বর রেল গেইট, কালিরবাজার, চাষাঢ়া মোড়ে সোনালী ব্যাংকের সামনে, খাঁজা মার্কেটের পেছনে, শহীদ মিনারের সামনে ও পার্শ্বে, সরকারি মহিলা কলেজের সামনে, চাষাঢ়া রেল স্টেশনের সামনে, চাষাঢ়া চত্বর সুগন্ধা বেকারির সামনে দেখা যায় অবৈধ ইজিবাইক ও সিএনজি স্ট্যান্ড। সড়ক দখল করেই চলছে যাত্রী উঠা নামা। প্রতিটা সড়কেই প্রচুর যানবাহন। ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও রাস্তা পার হতে পারছে না। 

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অবৈধ যানবাহনের অধিকাংশ চালক অনভিজ্ঞ। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। অনেকে ক্ষেত্রে ইজিবাইক ও লেগুনায় কমবয়সী কিশোর এমনকি শিশুদেরও ড্রাইভিং সিটে করতে দেখা যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে জেলা ট্রাফিকের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে।  আমি এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সাহেবের সঙ্গেও কথা বলেছি। বিষয়টি হচ্ছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা শহরে প্রবেশ রোধ করতে হলে আমাদের বেশকিছু এন্ট্রি পয়েন্ট যেমন জেলা পরিষদ, অক্টো অফিস, মন্ডলপাড়া, মেট্রোহলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে লোক লাগবে। কিন্তু এই ডিউটি কে করবে?’ 

তিনি বলেন, ‘শহরে অবৈধ যান প্রবেশ রোধ করতে হলে আমাদের অন্তত ৫০ জন লাগবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ট্রাফিক বিভাগে আমাদের লোকসংখ্যা রয়েছে মাত্র ১০০ জন। এই স্বল্প লোকবল নিয়েই আমাদের পুরো জেলায় কাজ করতে হয়। এখন আমাদের পক্ষে ৫০ জন লোক এ কাজে দেয়া সম্ভব না। তাই এ ক্ষেত্রে আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাহায্য নিবো।

ইত্তেফাক/জেডএইচ