পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কারাগারে শ্বশুর

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১৯:০৯

নববিবাহিতা পুত্রবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, খাগড়াছড়ির রামগড়ে দুর্গম হাতির খেদা নামক গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক গত মার্চ মাসে বড় ছেলে ইউসুফকে বিয়ে করান। ইউসুফ ঢাকা চট্টগ্রাম সড়কে চলাচলকারী একটি কাভার্ট ভ্যানের হেলপার হিসেবে চাকরি করেন। 
চাকরির কারণে তিনি অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন। নববধূ থাকেন শ্বশুরের ঘরের বারান্দার একটি কক্ষে। কদিন আগে রাত ১০টার দিকে টুথপেস্ট ও বিস্কুট দেয়ার অজুহাতে পুত্রবধূর ঐ কক্ষে ঢুকেন শ্বশুর। এসময় পুত্রবধূ রুমে একা শুয়ে ছিলেন।  

শ্বশুর হঠাৎ তার পুত্রবধূর হাত চেপে ধরেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। শ্বশুরের এমন অশালীন আচরণ নিভৃত করার চেষ্টা করেন  তিনি। এক পর্যায়ে গোপনে নিজের মোবাইল ফোনে বেসামাল শ্বশুরের অশালীন কথাবার্তা রেকর্ড করেন পুত্রবধূ।

পরে ঘটনাটি ফোনে জানালে স্বামী ইউসুফ বাড়ি এসে তার চাচার কাছে নালিশ দেন। চাচা প্রথমে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সামাজিকভাবে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হলে সমাজপতিদের ডাকে সাড়া না দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক রবিবার (১৬ আগস্ট) রামগড় থানায় এসে ছেলের নামে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। 

থানায় এ অভিযোগ দায়েরের কথা জানতে পেরে ছেলে ও তার স্ত্রী সোমবার হাতির খেদা গ্রামের সমাজপতিসহ এক-দেড়শ গ্রামবাসীকে নিয়ে থানায় এসে পুত্রবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করে। এরপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই অভিযুক্ত শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে।

রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. ফরহাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই পুত্রবধূ নিজেই বাদী হয়ে শ্বশুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর সংশোধিত ২০০৩ এর ১০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার অভিযুক্ত শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাককে আদালতের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ