আলোমুখী এক প্রাণ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১৯:৫৭

জাহিদ হাসান দিপু

 

সত্তরের দশকের শুরুতে যখন সারা বিশ্বেই তরুণ প্রজন্ম মাদকের দিকে ঝুঁকছিল, তখন শেখ কামাল তারুণ্য ও যুব সমাজকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা আর রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদেরকে দেশ গড়ার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মেধাবী, সাহসী, দেশপ্রেমিক, স্পষ্টবাদী সংগঠক। একাধারে ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক, নাট্যকর্মী ও নাট্যসংগঠক, শিল্পকলার সকল ক্ষেত্রে যার সুনিপুণ পারদর্শিতা ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শেখ কামাল তরুণ ও যুব সমাজকে সৃজনশীল রাজনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম আর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছিলেন; ছিলেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর একজন কমিশনড অফিসার। কিন্তু ঘাতকের বুলেটে শহীদ হয়েছিলেন এই বীর সেনানায়ক।

গত ৫ আগস্ট ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭১তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তার স্মৃতিই রোমন্থন করেন উপস্থিত অতিথিরা। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শেখ কামাল আমার দুই বছরের ছোট ছিল। কিন্তু জ্ঞান, প্রতিভা সব দিক থেকে সে ছিল বহুমুখী প্রতিভাশালী। একদিকে সে ছিল ক্রীড়া সংগঠক, অন্যদিকে ছিল সংস্কৃতিমনা। সে গান গাইতো, সেতার বাজাতো, অভিনয় করতো। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, আমার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন শেখ কামাল। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ চরিত্রের। তার হাত ধরেই আবাহনী ও স্পন্দনের যাত্রা শুরু।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, দেশের ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন শেখ কামাল। স্বাধীন বাংলাদেশে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনে ছিল তার অবাধ পদচারণা। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়া সংগঠক।

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে গেছেন শেখ কামাল। তিনি আজ বেঁচে থাকলে দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, সরকারি উদ্যোগে এবারই প্রথম শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেশের তরুণ ও যুবসমাজের সামনে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই জন্মবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত শেখ কামালকে সবাই চিনতে পারবেন। এ বছরের ন্যায় আগামীতে প্রতিবছর শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়া সংগঠক মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার ও ক্রীড়া সংগঠক তানভীর মাজহারুল ইসলাম তান্না।

শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষে ‘শহীদ শেখ কামাল- আলোমুখী এক প্রাণ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। একই সঙ্গে অসচ্ছল ও করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়াবিদ/ক্রীড়াসংগঠকদের আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে একযোগে এক লাখ চারা গাছ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।