মাস্কের বৈচিত্র্যে যখন দেশীয় সংস্কৃতি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১৯:৫৯

অতনু তিয়াস

বাঙালিদের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটা শব্দ হচ্ছে ‘মিতা’। বাংলা ভাষায় ‘মিতা’ শব্দের অর্থ বন্ধু (সখা, সুহূদ, উদার, উপযুক্ত, ভাগ্যবান ইত্যাদি)। অন্যদিকে একাধিক অর্থে আমরা ‘রা’ শব্দ ব্যবহার করি। অর্থাত্ ‘মিতারা’ মানে ‘বন্ধুরা’। আবার, জাপানিজ ভাষায় ‘মিতারা’ শব্দের অর্থ হলো, ‘সম্ভব হলে দেখেন বা দেখবেন’।

বন্ধুুত্বের এই সূক্ষ্ম দেখার মধ্য দিয়েই ‘মিতারা’র আবির্ভাব। দুইজন বাংলাদেশি ও একজন জাপানের অধিবাসী—এই তিন বন্ধুর সমন্বিত চিন্তার ফসল ‘মিতারা’। মূলত বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে পুনরায় জাপানের কাছে সুপরিচিত করতেই তাদের এই উদ্যোগ। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বাঙালিদের সঙ্গে জাপানিজদের সম্পর্ক শতাব্দী-প্রাচীন। ঐতিহাসিকভাবে জাপানকে বাঙালিরা বন্ধু রাষ্ট্র মনে করে।

মিতারা ব্রান্ডের এই তিন বন্ধু হলেন— মো. আনিসুর রহমান, সাদিয়া শারমিন ও হিরো তাকাহাশি। মো. আনিসুর রহমান মূলত পেশায় একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট বিজনেস ডিপ্লোমা ও ফ্যাশন ডিজাইন কোর্সে ডিপ্লোমা করেছেন জাপান থেকে। সাদিয়া শারমিন পেশায় একজন শিল্পী, শিশুসংগঠক ও শিল্প প্রশিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগ থেকে তিনি এমএফএ করেছেন। হিরো তাকাহাশি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে জাপান থেকে পড়াশোনা করেছেন। দেশ ও ব্যক্তিবিশেষে পার্থক্য থাকলেও তাদের ভাবনার শুরুটা বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি, জাপান-বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিনিময় ও ফ্যাশন নিয়ে। সামাজিক ও ব্যবহারিক তৈরিকৃত পণ্যসমূহ দিয়ে সূচনা করতে চাইলেও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তারা একটু ভিন্নভাবে শুরু করেছেন। যেহেতু মাস্ক এ মুহূর্তে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে— তাই সংস্কৃতি উপস্থাপনের প্রথম ধাপ মাস্কেই করেছেন। মিতারার বন্ধুরা ফ্যাশনের কথা মাথায় রাখলেও তাদের প্রাধান্য দেশীয় সংস্কৃতির দিকেই বেশি। তারা চিন্তা করছেন—ফ্যাশনে যত বেশি দেশ ও সংস্কৃতি প্রাধান্য পাবে বর্তমান প্রজন্ম তত বেশি এই সংস্কৃতিকে মূল্যায়ন করতে শিখবে। অন্যদিকে ভিনদেশি বন্ধুরা যখন সংস্কৃতি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে যাবে, তারাও আমাদের সম্পর্কে জানবে।