চলে গেলেন দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাংবাদিক সাইদা খানম

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৮

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রহাতে প্রশিক্ষণের যে ছবি ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, সাইদা খানম তা ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন। সত্যজিত্ রায় আর মাদার তেরেসার ছবি নিয়ে একক প্রদর্শনীও করেন তিনি। ফটোসাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাইদা খানম তুলেছেন ৩ হাজার ছবি। শেষ হলো তার মর্যাদাময় জীবন। চলে গেলেন ৮৩ বছর বয়সি দেশের প্রথম পেশাদার নারী আলোকচিত্রী, সাংবাদিক সাইদা খানম (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। সোমবার রাতে ঢাকার বনানীতে নিজ বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। সাইদা খানম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার কিডনির সমস্যাও ছিল।  তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তার সাহসী কর্মের প্রশংসা করে বলেন, সাইদা খানম তার কাজের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এক শোকবার্তায় বলেন, অদম্য সাহসী এই আলোকচিত্রী তার কর্মের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সাইদা খানম ১৯৩৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। ১২ বছর বয়সে তিনি ছবি তোলা শুরু করেন। সাইদা খানম আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫৬ সাল থেকে ‘বেগম’ পত্রিকায় কাজ করেন।

সত্যজিত্ রায়ের তিনটি ছবিতে আলোকচিত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৫৬ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেন সাইদা খানম। ঐ বছরই জার্মানিতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পায় তার ছবি। ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সুইডেন, ফ্রান্স, সাইপ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তার ছবির প্রদর্শনী হয়।

আলোকচিত্রে অনন্য অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তিনি শিল্পকলা শাখায় একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেসকো অ্যাওয়ার্ড, অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার, বেগম পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তি পুরস্কার, বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সম্মানসূচক ফেলোসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।