লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির হত্যার রায় দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে হিজবুল্লাহ জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত ছিল এমন প্রমাণ নেই। বিচারক আরো বলেছেন, ১৫ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডে সিরিয়ান সরকার সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিল সেরকম প্রমাণও নেই। খবর বিবিসির
শুনানি শেষে বিচারক তার রায় পড়ার সময় বলেছেন, হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর নেতাদের এই ঘটনায় জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৈরুতে হারিরির যানবাহনের ওপর যখন হামলা হয়, সেই সময় লেবাননে সিরিয়ার ব্যাপক প্রভাবকে হারিরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিলেন। হারিরির গাড়িবহর যখন বৈরুতের সমুদ্রের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বিস্ফোরকভর্তি একটি ভ্যান দিয়ে ঐ বহরে হামলা চালানো হয়। ঐ হামলায় রফিক হারিরিসহ ২২ জন নিহত হয়েছিলেন।
১৫ বছর আগে লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার দায়ে নেদারল্যান্ডসে জাতিসংঘ সমর্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত যে চার ব্যক্তিকে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হয়, তারা লেবাননের শিয়া হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর নিচু পর্যায়ের সদস্য। সন্দেহভাজনদের বিচার হয়েছে তাদের অনুপস্থিতিতে। ২০০৫ সালের বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ এই চার ব্যক্তি অস্বীকার করেছে। সিরিয়া সরকারও তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এই হত্যাকাণ্ড ছিল লেবাননের জন্য একটা মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। কারণ ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর যে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের উত্থান হয়, তা পরবর্তী বছরগুলোতে লেবাননের রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ঐ ঘটনার পর যে সিরিয়াবিরোধী ও পশ্চিমাপন্থি দলটি আত্মপ্রকাশ করে, তার নেতৃত্ব দেন হারিরির ছেলে সাদ হারিরি। তিনি তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
দ্য হেগ শহরের উপকণ্ঠে মঙ্গলবার রায়দানের সময় এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাদ হারিরি নিজেও যোগ দেন। চার জন অভিযুক্ত সালিম জামিল আয়াশ, হাসান হাবিব মেরহি, হুসেইন হাসান ওনেইসি এবং আসাদ হাসান সাবরা এখন কোথায় আছেন তা অজ্ঞাত। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর জাতিসংঘ ও লেবাননের সরকার ২০০৭ সালে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
