পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুপুর আড়াইটায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে প্রথম দিনের রিমান্ডে সাহেদ নিজেকে অসুস্থ দাবি করলে গতকাল সকালে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। শারীরিক কোনো সমস্যা না পাওয়ায় চিকিত্সকরা তাকে ছেড়ে দেন। এরপর দুপুর ২টার দিকে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যায় তাকে রমনা থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাতে অসুস্থ বোধ করার কথা বললে সাহেদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।
দুদক সূত্র জানায়, পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দি ফারমার্স ব্যাংক) অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গত ২৭ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ বাদী হয়ে সাহেদসহ চার জনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি সময়ে আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে ঋণের নামে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান করপোরেট শাখার এক কোটি টাকা (যা সুদাসলসহ ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থিতি ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা) আত্মসাত্ করেন। ওই মামলার আসামিরা হলেন—পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক চিশতী, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইব্রাহিম খলিল।
এই মামলায় গত ১০ আগস্ট সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ আবেদন করেন। ওই দিন আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ডের ধারাবাহিকতায় গতকাল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ।
গত ৬ জুলাই র্যাব রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। পরে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র্যাব।
ইত্তেফাক/ইউবি
