স্বীকৃতি দাবিতে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর আমরণ অনশন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ০৩:৫১

গাংনীতে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে প্রেমিক স্বামীর বাড়িতে আমরণ অনশন করছে একজন নারী। বুধবার সকাল ১০ টা থেকে অনশন শুরু করেছেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলে সাব্বির হোসেনের বাড়ির সামনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা (নারী পুরুষ) ভীড় জমিয়েছে।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী খাসমহল গ্রামের এক নারীর (২১) ও একই উপজেলার বামন্দী পশু হাট পাড়া সংলগ্ন নওদা ছাতিয়ান গ্রামের সাবেক মেম্বর শওকত আলীর ছেলে সাব্বির হোসেনের (২৪) মধ্যে কুষ্টিয়া শহরে পড়াশোনার সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্ক এক পর্যায়ে দুজনের সম্মতিতে কুষ্টিয়া জজ কোর্টে এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কাবিন নামা অনুযায়ী ০৭-০৮-২০১৯  ইং তারিখে তাদের  বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ মাস সংসার ও মেলামেশা করলেও পরে সাব্বির হোসেন আর কোন খোজঁ খবর নেয়না বা স্ত্রীর স্বীকৃতি বা মর্যাদা দিতে অস্বীকার করে।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, আমরা দু’জন কুষ্টিয়াতে পড়াশোনা করতাম। আমি নার্সিং ও সাব্বির হোসেন পলিটেকনিকে লেখাপড়া চলাকালীন অবস্থায় দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সাব্বিরের গ্রামে আমার আত্মীয় থাকার সুবাদে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক পাকাপাকি হলে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হই। গত ৮ মাস যাবত সে আমার কোন খোঁজ খবর নেয়না। আমি গোপনে জানতে পেরেছি, সাব্বির আমাকে ছেড়ে বিয়ে করার জন্য মেয়ে দেখছে। উপায়ন্তর না পেয়ে আমি স্ত্রীর দাবিতে  সাব্বিরের বাড়িতে আমরণ অনশন করবো। আমাকে হয় মেনে নেবে নয়তবা আমি মৃত্যুবরণ করবো 

ভুক্তভোগী ওই নারীর খালা মালতি খাতুন জানান, সাব্বির হোসেন আমার বাড়িতে বিলকিসের সাথে অনেকবার এসেছে। এখন সে সব অস্বীকার করছে।

এ ব্যাপারে সাব্বির হোসেন ও তার বাবা শওকত মেম্বরের সাথে কথা বলতে চাইলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি এমনকি যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, আমরা সকাল থেকে দেখছি, খাসমহলের একটি মেয়ে সাবেক শওকত আলীর বাড়ির সামনে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে সকাল থেকে অবস্থান করছে।  গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিষয়টি জানতে ভীড় জমাচ্ছে।

গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছ্। ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ