করোনাকালে দেশে শিশু ও নারী নির্যাতন ঘটনা বেড়েছে: নারী মৈত্রী

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ২০:৩১

করোনাকালে শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী মৈত্রী। সংস্থাটির মতে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রায় আড়াইশ ধর্ষণ এবং প্রায় ৭৫টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে শতাধিক অপহরণ ও ৬৭টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টাস ক্লাবে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নারী মৈত্রীর পিসিটিএসসিএন প্রকল্প সমন্বয়কারী মোমেনুল হক মোমেন এসব তথ্য জানান। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় পরিকল্পনা (২০১৮-২০২২) বাস্তবায়নের লক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় দৈনিক প্রথম আলো’র বরাত দিয়ে মোমেনুল হক বলেন, করোনাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্রতা কমেনি। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ২৩০টি শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে এক চতুর্থাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে। ৪২৭ নারী ধর্ষণ ও ২৪ জন ধর্ষণজনিত হত্যার শিকার হয়েছেন। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন। ধর্ষণের পর ৬ জনের আত্মহত্যা, ৬২ নারী যৌন হয়রানির শিকার এবং ৮৬ নারী স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। 

আরও পড়ুন: মদনে নৌকাডুবির তদন্ত প্রতিবেদন: প্রচণ্ড বাতাস ও ঢেউ প্রাণহানীর কারণ

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে এবং ক্ষুধার্র্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন এর একটি তথ্য তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, করোনা মহামারির প্রভাবে পরিবারের আয় কমে যাওয়ার ফলে বাবা মা ও অভিভাবকদের চাপ তৈরি হচ্ছে। যার কারণে এশিয়া অঞ্চলে সাড়ে ৮ কোটি পরিবারের সঞ্চিত খাবার অপ্রতুল বা নেই বললেই চলে। আর এ অঞ্চলের ১১ কোটি শিশু ক্ষুধার্ত থেকে যাচ্ছে। একারণে শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে ও ক্ষুধার্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

মতবিনিময় সভায় রিপোর্টার্স ক্লাব এর সভাপতি আব্দুল হালিম আনছারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম বাবলা, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ বায়েজীদ আহম্মেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, আফরোজা বেগম, আজম পারভেজ, আনোয়ার ইমরোজ ইমু, পিসিটিএসসিএন প্রকল্পের আইন সহায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা চৌধুরি, প্রথম আলো বন্ধুসভার রংপুর সভাপতি অপূর্ব কৃষ্ণ রায়, সদস্য সুমনা আক্তার প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এসি