কর্মক্ষেত্রের পদোন্নতি নিয়ে অনেকেই বেশ চিন্তিত। এ বিষয়ে কেউ কেউ হতাশায়ও ভুগছেন। হতাশা গ্রস্তদের উদ্দেশ্যেই আমাদের এবারের আয়োজন। চলুন কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির জন্য কী করণীয় তা দেখে নেয়া যাক—
খুঁজে বের করুন কী করা প্রয়োজন
আনুষাঙ্গিক বাঁধা-বিপত্তিকে এড়িয়ে বা টপকে যেতে হবে—এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। এটাই সব জায়গার চ্যালেঞ্জ। এটাও সবাইকে মানতে হবে যে সার্বিক উন্নতির ক্ষেত্রে সততা ও সহিষ্ণুতা থাকাটা খুবই জরুরি। তবে সুযোগসন্ধানীও হতে হবে। সুযোগ বার বার আসে না, তাই সুযোগ আসা মাত্রই তা গ্রহণ করতে হবে। আবার কখন সুযোগ আসবে এর জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকলেও চলবে না। নিজেকেও সুযোগ তৈরির জন্য নানাভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে। কী করলে সফলতা পেতে পারেন এই বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে হবে। চাকরির ক্ষেত্রে কাজ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে খুশি করার ব্যতিক্রম কিছু নেই। আর এসব উপায় অবলম্বন করাটাই হচ্ছে লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রথম লড়াই। এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিন্তাধারাগুলোই আপনাকে সাফল্যের উচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে। এখন ধরুন আপনার কী কী করা প্রয়োজন এর একটা তালিকা করলেন। কাজ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আপনাকে ভাবতে হবে আপনি যা করছেন তা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে সাংঘর্ষিক কি না। যদি সাংঘর্ষিক হয় তাহলে প্ল্যান বি। কারণ সাংঘর্ষিক কোনোকিছুতে কখনোই জড়ানো ঠিক নয়। তাতে ভালো ফলাফল মিলবে না। প্রমোশনের বিষয়টি এমনভাবে চিন্তা করবেন যেন এই প্রমোশন আপনার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রশ্নগুলোর যথোপযুক্ত জবাব বের করেই আপনাকে কাজে হাত দিতে হবে। অন্যথায়, আপনার কাজের ক্ষেত্রই আপনাকে সফলতা পেতে দিবে না, ব্যর্থতার সাগরে ডুবাবে। সেই সাগরের কূল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খোলা চোখে দেখা যায় না।
প্রমোশন পেতে হলে
আপনার বসের চাহিদামাফিক আপনাকে কাজ করতে হবে; আর এটাই উচিত। জানতে হবে আপনার কাছে তার চাহিদা কী, গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু বা কী করলে প্রতিষ্ঠান আরও উন্নত হতে পারবে, হতে পারবে লাভবান। আপনার বস যেই ধারায় কাজ করতে বা দেখতে পছন্দ করে ঠিক সেই ধারাটিই অবলম্বন করুন, তা যতই কঠিন হোক। প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রমাণ দিতে হবে, প্রমাণ করতে হবে প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনার সত্ পরিকল্পনার কথা। আপনার সত্ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় সকলকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আপনার প্রতিষ্ঠান আপনার সাফলাঙ্ক সম্পর্কে জানবে; জানবে আপনার দক্ষতা, কর্মক্ষমতা, কর্মস্পৃহা, সততা ইত্যাদি সম্পর্কেও। এরপরও বাচনভঙ্গি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি তো আছেই, তারপরই না পদোন্নতির প্রশ্ন। তাছাড়া কাজের মাপকাঠিতে মাপার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আপনাকে বিভিন্ন প্রকার সাময়িক কাজ দিবে। সেই কাজে দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলেই পাওয়া যাবে প্রমোশন। নিজের কাজ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবেই উপস্থাপন করতে হবে। এরপর যদি নতুন অবস্থানে আপনার সমর্থ প্রমাণ করতে পারেন, তখনি কেবলমাত্র আপনাকে নতুন অবস্থানের জন্য স্থায়ীভাবে বহাল করবে। নতুন অবস্থানে আসার পর আপনাকে আপনার নিজের কাজকেও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মনে মনে স্থির করতে হবে আপনি আপনার বর্তমান অবস্থানে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখাতে পারবেন। নিজেকে স্থির করে নিতে হবে- ‘হ্যাঁ, আমি পারবো’। আরও একটি বিষয়ে মনস্থির করতেই হবে যে আমি আমার সাফল্যের জন্য অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় করতে পারবো। অনেকের ধারণা সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলেই প্রমোশন পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ধারণাটা ভুল। সকাল-সন্ধ্যা কাজ করলেই প্রমোশন পাওয়া যাবে না। প্রমোশন পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই কমর্দক্ষতা, বিচক্ষণতা, কর্মস্পৃহা, উন্নত ধারণা, নতুন নতুন কাজ করার মত সাহস থাকতে হবে যা আপনার ঊর্ধ্বতনের নজর কাড়বে। আর এই কাজগুলো আপনাকে এনে দিবে সফলতা, পাইয়ে দিবে প্রমোশন। তাছাড়া উর্দ্ধতন যেভাবে চায় তার পুরোটাই দিতে পারলে ভালো। এ ছাড়া প্রমোশনের ক্ষেত্রে আরও একটি জরুরি বিষয় হলো আপনি যদি বর্তমান কাজে পুরো সফলতা ছাড়াও অন্যান্য কাজেও দক্ষতার সাথে কাজ সম্পাদন করার ক্ষমতা অবমুক্ত করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনার ঊর্ধ্বতন আপনার প্রতি খুশি থাকবে।
ঊর্ধ্বতনকে আগ্রহী করতে
আপনার উচিত ঊর্ধ্বতনকে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন ব্যস্ত থাকে তখন অবশ্য এই কাজ করা ঠিক নয়। একটি ভালো সময় বিচার করেই আপনাকে কাজটি করতে হবে। সময়টা হতে পারে লাঞ্চের সময় কিংবা অফিস শেষে অথবা কোন আনন্দঘন মুহূর্তে। মনে করুন আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো ওয়েবসাইট নেই। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনকে আহ্বান করলেন। তাছাড়া ওয়েবসাইটটি তৈরি করতেও আপনি সাহায্য করলেন। এতে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আপনার প্রতি খুশি থাকবে। কারণ ওয়েবসাইটটিতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকার বিজ্ঞাপনসহ সকল ধরণের তথ্য সরবরাহ করা যাবে। এমন সব নিত্যনতুন ধারণা তৈরি করলে আপনার প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই লাভবান হবে। আর প্রতিষ্ঠান লাভবান হলে আপনার প্রমোশন নির্ঘাত। মোটকথা, বসের মাথা যখন ঠাণ্ডা থাকবে তখনি কেবলমাত্র এমন সব নতুন ধারণার কথা বসকে জানাতে হবে। নতুন ধারণা সর্ম্পকে পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে।
