একজন মানুষের প্রতিটি কাজকর্মের ওপর নির্ভর করেই পরিচয় মেলে তার ব্যক্তিত্বের। অপরের সঙ্গে কথা বলার ধরন, আচার-আচরণ শুধু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিত্বের এ পরিচয় চাকরি রক্ষা থেকে শুরু করে পেশাজীবনেও বাড়তি মাত্রা যোগ করে। নিজেকে তুলে ধরার জায়গা এখন অনেক বিস্তৃত। নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখার জন্য আপনি নিজেকে কিভাবে গড়ে তুলতে পারেন, তা নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন
সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
সবার চোখ আপনার ওপর
কাউকে চেনা বা চেনানোর জন্য এখন নতুন একটা উপায় হলো ইলেকট্রনিক আইডেন্টিটি। এ পরিচয় মূলত ইন্টারনেট-নির্ভর। এটা যেমন কারও ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হতে পারে, আবার হতে পারে ই-মেইল ঠিকানা থেকেও। ইদানীং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইন্টারনেটে আলোচনার ওয়েব গ্রুপ এ পরিচয়টাকে বেশ জোরালো করে তুলছে। মনে রাখতে হবে, আপনার এ পরিচয় অনেক উন্মুক্ত। বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে চাকরির নিয়োগদাতা পর্যন্ত সবাই এটা দেখতে পারে। তাই এখানে নিজেকে তুলে ধরতে হবে সাবধানে।
সাধারণ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ
ই-মেইল ঠিকানাটা খুব সাধারণ বিষয় হতে পারে, এ থেকেও ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা করা সম্ভব। মূলত ই-মেইল ঠিকানায় একজনের ব্যক্তিত্ব তথা রুচিবোধের প্রমাণ মিলতে পারে। অনেকে তাদের ই-মেইল ঠিকানায় চলতি সময়ের কিছু তথাকথিত স্মার্ট শব্দ জুড়ে দেয়, কিন্তু এ বিষয়টি তার অবস্থান ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যাচ্ছে কি না, সেটাও বিবেচনা করতে হবে। এমন ই-মেইল ঠিকানা থাকতেই পারে, তবে সেটা সব জায়গায় ব্যবহার না করলেই হয়। প্রচলিত মেইল সার্ভারে নিজের নামে ই-মেইল ঠিকানা খুলতে চাইলে একটা সমস্যা হতে পারে, একই নামে একাধিক ই-মেইল থাকা। এ ক্ষেত্রে নামের শেষে কিছু শব্দাংশ জুড়ে দেওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় সমাজ
ফেসবুক, হাই ফাইভ, টুইটার, মাইস্পেস কিংবা অর্কুটের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো এখন ভার্চুয়াল দুনিয়ার অন্য এক সমাজের দরজা খুলে দিয়েছে। এ সাইটগুলোর মাধ্যমে পরিচিতি আর সম্পর্কের জাল বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেকেও তুলে ধরা যাচ্ছে সবার সামনে। এখানে বন্ধু নির্বাচন, শব্দ চয়ন, গ্রুপে নাম যোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম একজন সম্পর্কে অনেকখানিই তুলে ধরতে পারে। তাই এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিত। মনে রাখতে হবে, এখানে আপনি যা-ই করছেন, তা আপনার বন্ধু যেমন দেখতে পারে, তেমনি জানতে পারবে অফিসের কর্তাব্যক্তিটিও।
নিজেকে প্রকাশের দর্পণ
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট আমাদের দেশে খুব একটা প্রচলিত না হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রয়োজনেই এটি আবশ্যক হয়ে পড়ছে। এ ধরনের ওয়েবসাইটের সুবিধা হলো, দুই পৃষ্ঠার প্রচলিত জীবনবৃত্তান্তের বাইরে নিজেকে আরেকটু বিশদভাবে তুলে ধরা। তাই এমন ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট পেশাজীবনে বেশ কাজে আসতে পারে।
চেনা যাবে দূর থেকেও
কথা বলাটাই এখানে আসল। বলার ভঙ্গিটাই কথা বলবে অন্য ভাষায়। প্রথমবারের মতো টেলিফোনে কারও সঙ্গে কথা বললে, তার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণার প্রায় পুরোটাই আসে এই কথা বলা থেকে। ব্যক্তিগত বিষয় তো বটেই, আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিষয়ে কথা বললেও বিষয়টি ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে। কথা বলায় শিষ্টাচার কিংবা ব্যক্তিত্বের বিষয় আছে, আছে নিজের কিংবা প্রতিষ্ঠানের ভঙ্গি।
রিংটোনে ব্যক্তিত্ব
পরিপার্শ্বের বিচারে মুঠোফোনের রিংটোন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয়। রিংটোন এমন হওয়া উচিত নয়, যা অন্যকে বিরক্ত করে। অফিসে বা কোনো অনুষ্ঠানে গেলে রিংটোন বন্ধ রেখে ভাইব্রেটর চালু রাখা উচিত। আর রিংটোন ব্যবহার করতে চাইলে তা হতে হবে এমন, যেটি আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কারও সঙ্গে কথা বলছেন, সেসময় আপনার ফোনে হিন্দি ছবির গান বেজে ওঠা মোটেই শোভন নয়।
এসএমএস-এ বড় খেয়াল
মোবাইল ফোনে এসএমএস করে অনেক সময় ব্যস্ততার মধ্যেও কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়া যায়। বর্তমানে এসএমএস-এর একটি নিজস্ব ভাষা দাঁড়িয়ে গেছে। খুব সাধারণ বিষয় হলো, যত সম্ভব সংক্ষিপ্ত করা। সম্পর্ক ভেদে এর ভাষা ভিন্ন হতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কাউকে এসমএস পাঠালে মার্জিত শব্দে বিস্তারিত লেখাই ভালো।
