ঘু রে বে ড়া ই

পানাম নগরী

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৬

যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি আর অবসাদ ধুয়ে মুছে মনে প্রশান্তি ফিরে পাওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হচ্ছে ভ্রমণ। তাই আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার অদূরেই ঐতিহাসিক বাংলার প্রাচীনতম শহর পানাম নগরে।

মধ্যযুগীয় বাংলার ঈসা খাঁর আমলে নির্মিত বাংলার প্রথম রাজধানী সোনারগাঁও। যেখানে এখনো ইতিহাসের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পানাম নগর। দেশি-বিদেশি পর্যকটকদের পদচারণায় মুখরিত এই পানাম নগরী।

পানাম নগরের রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি দৃষ্টিনন্দন প্রাচীন আমলের নকশাখচিত দালান। নগরীর অভ্যন্তরে আবাসিক ভবন ছাড়াও ধর্মীয় উপসনালয়, পুরোনো জাদুঘর, নাচঘর, চিত্রশালা, পান্থশালা রয়েছে। এ ছাড়া ৪০০ বছরের পুরনো টাকশাল বাড়ি ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তৈরি নীলকুঠি এখানে দেখতে পাওয়া যায়।

সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এলাকায় রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরটি। এখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন গ্রাম-বাংলার শিল্পীদের হস্তশিল্প, জনজীবনের নিত্য ব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী। মোট ১১টি গ্যালারিতে দুর্লভ ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে নিপুণ কাঠ খোদাই করা জিনিস, মুখোশ, নৌকার মডেল, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়া মাটির নিদর্শন, জামদানি ও নকশিকাঁথা রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্যবাহী এইসকল নিদর্শন, যা সাধারণ জাদুঘর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

পানাম নগরীর পূর্ব দিকে রয়েছে মেঘনা নদী আর পশ্চিম দিকে শীতলক্ষ্যা। এই নদী পথে আসত বিলাতি থানকাপড় আর বাংলা থেকে যেত বিশ্ব সমাদৃত মসলিন কাপড়। এ ছাড়াও এই নগরীর আশপাশে রয়েছে ছোট-বড় পুকুর-হ্রদ।

ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড ২০০৬ সালে পানাম নগরকে বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকাভুক্ত করে। এই বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অনুভব ও উপভোগ করতে আপনার ছুটতে ঘুরে আসুন পানাম নগরী।

পানাম নগরে কিভাবে যাবেন

ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি বাস আছে, যা আপনাকে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে রিকশায় চড়ে আপনার গন্তব্য পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।

প্রবেশ ফি :পানাম নগরীতে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। আর জাদুঘরে প্রবেশ করতে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।