ফারজিয়া হক ফারিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ছোটবেলা থেকেই অনেক গুণের অধিকারী সুনামগঞ্জের মেয়ে ফারিন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সরব উপস্থিতি ছিল তার। এবারের অন্য তারুণ্যে ফারিনের কথা জানাচ্ছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার
বন্ধুদের কাছে ফারিনের ডাকনাম ফড়িং। ফড়িং যেভাবে উড়ে বেড়ায়, ফারিনও নিজেকে তেমনই স্বাধীন ভাবতে পছন্দ করেন। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, আবৃত্তি করা, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করা, মঞ্চনাটকে অভিনয় করা—এমন নানা গুণ তার আছে। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। কাজ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও। আর যেহেতু এখন থিয়েটারের শিক্ষার্থী, তাই নাটক নিয়েই সময় কাটে। এসবের বাইরে তার আরেক প্রিয় শখ হল ঘুরে বেড়ানো। সময় পেলেই পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি দেখতে ছুটে যান ফারিন।
ফারজিয়া হক ফারিনের বাবা ফজলুল হক পেশায় ব্যবসায়ী ও মা কানিজ সুলতানা শিক্ষিকা। ছোট আরেক বোন তাজিন কলেজে পড়ছে, এই নিয়ে চারজনের ছোট পরিবার। ফারিন পড়াশোনা করেছেন সুনামগঞ্জের সৃজন বিদ্যাপীঠ, সরকারি এসসি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় বরাবরই ফারিন মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্তি, কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক সপ্তাহে তিন বিষয়ে প্রথম হয়ে সবার সেরা হওয়া, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নের খেতাব পাওয়া, গণিত অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হওয়া—এমন নানা অর্জন রয়েছে তার ঝুলিতে। এ ছাড়াও স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হওয়া, ছবি আঁকায় সেরা হওয়া, সুন্দর হাতের লেখায় প্রথম হওয়া—অসংখ্য অর্জনের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট শোভা পায় তার বাসার শোকেসে। এখন পর্যন্ত নাকি ঝুলিতে প্রায় ২৫০-এরও বেশি সার্টিফিকেট জমেছে। এর বাইরে সুনামগঞ্জে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ডাক পড়ত তার। ফলে শহরের অনেকের কাছে পরিচিত মুখ ছিলেন। তবে পড়ালেখায়ও সমানতালে ভালো ফলাফল করেছেন। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ ফাইভ। বিশ্ববিদ্যালয়েও ভালো ফল করছেন।
ফারিন বললেন, ‘ভালো কাজ করার জন্য সসবসময় উত্সাহ জোগান মা-বাবা। তাদের প্রেরণাতেই পড়ালেখার বাইরে অন্যান্য কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি।’ এরপর প্রসঙ্গে বদলে জানতে চাওয়া হল নানা প্রিয় বিষয় সম্পর্কে। ফারিনের প্রিয় রঙ গাঢ় নীল। কেন প্রিয়? উত্তর, গাঢ় নীলের মধ্যে অন্যরকম এক ভালোলাগা খুঁজে পান। এ ছাড়া অবসরে বই পড়তে খুব ভালোবাসেন। গল্প করা, ঘুরতে যাওয়া আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া খুব পছন্দ। প্রিয় বই বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়, প্রিয় লেখক জাফর ইকবাল। আর প্রিয় চলচ্চিত্র মাটির ময়না। এ ছাড়া ক্রিকেট খেলা তার খুব পছন্দের, আর পছন্দের খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। প্রিয় উক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারিনের উত্তর, ‘স্বপ্ন সেটা নয় যেটা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা মানুষকে ঘুমোতে দেয় না।’ সবশেষে নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা জানালেন এই স্বপ্নবান তরুণী। বললেন, ‘থিয়েটারে পড়ছি, থিয়েটারের সঙ্গেই থাকতে চাই। নিজেকে একদিন সফল পরিচালক হিসেবে দেখতে চাই।’
