খেয়া নৌকা বেয়ে দশ গ্রামের মানুষ পারাপার করেন গুরুদাসপুরের রাজা মাঝি। মানুষ পারাপার করেই চলে তার সংসার। এখন রাজা মাঝির বয়স ৮৬ বছর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ ফুটে উঠেছে। কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না। কানেও শোনেন না ঠিকমতো। সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে রাজা মাঝি এখনো এই পেশাতেই আছেন। প্রভাতফেরি থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজা মাঝি বৈঠা ঠেলে পথচারীদের গুমানী নদী পারাপার করেন।
উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাজা মাঝি। বাড়িসংলগ্ন গুমানী নদীতে খেয়া নৌকায় মানুষ পারাপারের কাজটি করছেন তিনি। বুধবার রাজা মাঝির খেয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, উদোম শরীর, চামড়ায় পড়েছে বার্ধক্যের ভাজ। শরীরজুরে রগ জেগে গেছে। মাথায় সাদা কাপড় জড়িয়ে শক্ত হাতে বৈঠা বেয়ে খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার করছেন তিনি। নৌকার যাত্রী আবিদ মুন্সি ও রায়হান প্রামানিক বলেন, পাঁচ দশক ধরে মানুষ পারাপারের কাজ করছেন তিনি। উপজেলার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানালেন, যুবক বয়স থেকেই জীবিকা হিসেবে মানুষ পারাপারের পেশাটি বেছে নিয়েছিলেন রাজা মাঝি। স্থানীয় বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক আবু শামা মণ্ডল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পারাপারে অবদান রয়েছে এই মানুষটির। দেশ স্বাধীন হলেও রাজা মাঝির ভাগ্য বদলায়নি। জীবন-জীবিকা আর নদী-নৌকার মায়ায় এখনো বৈঠা হাতে নৌকা পারাপার করে চলছেন তিনি। মশিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পারাপারসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন রাজা মাঝি। পরিষদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয় তাকে।
