যমুনা নদীর পানি কমার সাথে সাথে জেলার কাজিপুর উপজেলার ১ নং সাইড ঢেকুরিয়া পয়েন্টের শহীদ এম মনসুর আলী ইকোপার্কের উত্তরে নদীতীর রক্ষাবাধে ধস নেমেছে। শনিবার ভোররাত সাড়ে তিনটা থেকে এই ধস শুরু হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় একশ মিটার বাধ নদীগর্ভে চলে গেছে।
শনিবার ভাঙন কবলিত স্থানে গিয়ে দেখে গেছে আতঙ্কিত লোকজন বাড়িঘর ও অন্যান্য জিনিসপত্র ট্রাকযোগে সরিয়ে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দীক ও পাউবোর পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা ভাঙনকবলিত স্থানে জিওব্যাগে বালি ভরে নৌকার মাধ্যমে দ্রুত ফেলার জন্য নির্দেশ দেন। ভাঙন রোধে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজন বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলা শুরু করেছে।
আরো পড়ুন : করোনায় সাংবাদিক আব্দুস শহীদের ইন্তেকাল
এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মাইজবাড়ি ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, ‘ভোররাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। সেইসময় প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে আজগর আলীর একটি ঘর, টিউবওয়েল পানিতে দেবে যায়। ’
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) হায়দার আলী জানান, ‘ভোর থেকে আমরা পাঁচশ জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছি।’
এদিকে তীর রক্ষা বাধের পুরাতন ওয়াপদা বাধ সংলগ্ন স্থানে এই ধস দেখা দেওয়ায় ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢেকুরিয়া হাট, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের সহস্রাধিক পরিবার।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দীক জানান, ভাঙনে কমলা বেওয়া নামে এক বিধবার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। তাকে আপাতত শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। আগামীতে তাকে পুনর্বাসন করা হবে। ৪/৫টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাউবোর লোকজন বৃষ্টির মধ্যে সকাল থেকে জিওব্যাগে বালি ফেলছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
