লিংক রোডের এ কেমন সংস্কার!

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ১৫:৪৭

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড নির্মাণের পর থেকেই এর মেরামতে ঢালা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ২ বছর আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচ করে লিংক রোডের সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৮.৪ কিলোমিটারের সড়কটিতে যত টাকা খরচ করে মেরামত করা হচ্ছে দিনদিন যেন আরো বেহাল দশা হচ্ছে সড়কটির। 

বিশেষ করে সড়কটির পশ্চিম পাশের অবস্থা এতটাই নাজুক যে একমাস অন্তর অন্তর টিউমারের মত ফুলে ফেঁপে উঠে। সড়ক জুড়ে তৈরি হয় ছোট বড় গর্তের। এসব টিউমার অপসারণ আর গর্ত ভরাট করতে প্রতি মাসেই মেরামত করতে হয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে আরো ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। যার ফলাফল হচ্ছে সড়কটিতে আবারো জোড়াতালির মেরামত করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমলেই গাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে সময় লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সড়কের পাশে ড্রেন থাকলেও কোনো কাজে আসছে না। এতে করে বছর জুড়েই এই সড়কের চালক এবং যাত্রীদেরকে ভয়াবহ দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। 

কর্মরত সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাড়ি চালক মো: সাজু মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টির সাপোর্টিং হিসেবে কার্পেটিং ভাঙ্গা ও পাথরের দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সাপোর্টিং হিসেবে এটা দিতে হয়। নয়তো গর্ত আরো বড় হয়। 

জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের মেরামতের কাজের উদ্বোধন করেছিলেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান। কিন্তু মাত্র ৪ বছরের মাথায় সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৮ সালে সড়কটি আবারো সংস্কারের জন্য ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার বাজেট দেয় সরকার। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে মেরামতের কাজের টেন্ডার পায় মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শুরু করার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উঠতে থাকে দুর্নীতির নানা অভিযোগ । 

আরো পড়ুনঃ নিরাপত্তার খোঁজে হনুমান থানায়

২০১৮ সালের ১৩ জুলাই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘লিংক রোডের জন্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগের বক্তব্য হচ্ছে, এ লিংক রোডের পাশে একটি ড্রেন হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন এর কাজটি করলেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এখানে সমন্বয়হীনতার কারণে দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। একটি ছোট ড্রেন করতে সিটি কর্পোরেশন ৬ মাস সময় নিয়েছে। এটা দ্রুত করা উচিত ছিল। ৫ মাসের আগে ওয়ার্ক অর্ডার হলেও সড়ক ও জনপথ কাজ করতে পারছে না। আমরা কাউকে দোষারোপ করবো না। আমি আশা করবো দ্রুত সিটি কর্পোরেশন এ ড্রেনের কাজ শেষ করবে। আর লিংক রোড সংস্কারে গাফিলতি হলে ছাড় নেই।’ 

তবে সাংসদ শামীম ওসমান ছাড়াও সড়কটি মেরামতের কাজ পরিদর্শনে এসে একই ভাবে কঠোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই সময় সংবাদকর্মীদের বলেছিলেন, ‘রাস্তটি ভালোভাবে করার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিম্ন মানের কাজ হলে শাস্তি, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’ 

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নারায়ণগঞ্জ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ইত্তেফাক/এমএএম