ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের পেছনে ছুটতে হচ্ছে না গ্রাহককে। উল্টো পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি ছুটছে। বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য আবেদন করে আর দিনের পর দিন অফিসে ঘোরাঘুরি নয়। আলোর ফেরিওয়ালা ভ্যান গ্রামে গ্রামে পৌঁছে নির্ধারিত ফি নিয়ে পাঁচ মিনিটে বিদ্যুত্ দিচ্ছে। গ্রাহকদের বিদ্যুত্ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে ধরনাও দিতে হচ্ছে না। টাকা জমা দেওয়ার জন্য আর লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। এ অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ঝিনাইদহ জেলায় পল্লী বিদ্যুতের কার্যক্রম শুরু হয়। আর গ্রাহক সংযোগদান শুরু হয় ১৯৯৬ সাল থেকে। সে সময় গ্রামে বিদ্যুত্ পাওয়া ছিল সোনার হরিণ। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলায় পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ছয় হাজার একশ’ ২১ কিলোমিটার। জেলার গ্রামের সংখ্যা এক হাজার ৩৯। এর মধ্যে এক হাজার ৩৮ গ্রামে বিদ্যুত্ পৌঁছে গেছে। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা তিন লাখ ৩৫ হাজার ৬’শ ৫৬ জন। এরপরও বেশসংখ্যক মানুষের বাড়িতে বিদ্যুত্ নেই। সব বাড়িতে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শেখ আব্দুর রহমান। সকালে ভ্যানে তোলা হয় মিটার, তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম। সাথে থাকে দুইজন লাইনম্যান ও একজন ওয়ারিং পরিদর্শক। নতুন সংযোগ নিতে ইচ্ছুক গ্রাহকের বাড়ির সামনে পৌঁছে যায় আলোর ফেরিওয়ালা ভ্যান। উঠানে দাঁড়িয়ে আবেদন ফরম গ্রহণ করে ৪শ’ টাকা ফি নিয়ে মিটার বসিয়ে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়ায় ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগছে। ২৪ ডিসেম্বর হরিণাকুন্ডুতে আলোর ফেরিওয়ালার মাধ্যমে সংযোগদান শুরু হয়। সদর উপজেলার মায়াধরপুর গ্রামের নায়েব আলি ও আরব আলি জানান, রবিবার সকালে পল্লী বিদ্যুতের লোকেরা ভ্যান নিয়ে বাড়িতে এসে হাজির। ৪শ’ টাকা ফি নিয়ে মিটার লাগিয়ে বিদ্যুত্ লাইন দিয়ে যায়। আর বাড়ি আলো ঝলমল হয়ে যায়। এ গ্রামের পুরানো গ্রাহক আবু হানিফ জানান, তিনি আট বছর আগে বিদ্যুত্ নিয়েছিলেন। তখন বিদ্যুত্ পেতে দিনের পর দিন অফিসে ধরনা দিতে হতো। পয়সা খরচ করতে হতো। এখন বাড়ি বসে বিদ্যুত্ সংযোগ পাওয়ায় মানুষ খুশি।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জিএম প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ না পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের এ কার্যক্রম চলবে।
