রামিসা মালিহা ও আকুতি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২১:০১

  মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

আমাদের দেশে করোনা মহামারি শুরু হলে দেখা যায় যে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের পথ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। অনেকে একবারে বেকার হয়ে যান। এই সব মানুষজন পরিবারসহ খুব বিপদে পড়ে যান। বিষয়টি আমাদের বিবেককে খুব নাড়া দিলো, আমাদের তরুণ প্রাণকে ছুয়ে গেলো। আমরা সমমনা কিছু বন্ধুরা মিলে কিছু করার চিন্তা করতে শুরু করলাম। এই চিন্তা থেকেই ‘আকুতি’র জন্ম। এভাবেই বলছিলেন আকুতির কো-ফাউন্ডার রামিসা মালিহা। তিনি বলেন, কারো নিকট থেকে কিছু পাওয়ার বা কারো জন্য কিছু করার প্রত্যাশাকেই ‘আকুতি’ বলা হয়। এই অতি গরিব বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার প্রয়াসে সাহায্য প্রদানে আগ্রহী মানুষদের সহযোগিতার প্রত্যাশায় আজকের এই ‘আকুতি’র আত্মপ্রকাশ।

দুর্ভাগ্যবশত করোনা ভাইরাসের আক্রমণের ফলে কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়ে যারা কষ্ট করছে, তাদের সাহায্যের লক্ষ্যে ‘আকুতি’র উদ্যোগটির প্রেক্ষাপট। শুরুতে আরাফাত জামিল, আহমেদ রাফসান এবং আমি ছিলাম। পরে খাদিজা রহমান, রহুল ইফতেখার যুক্ত হয়। আমরা বন্ধু-বান্ধব আর পরিবারের সহযোগিতা পেলেও সবাই আমাদের বলছিল করোনায় আমরা কীভাবে বাইরে গিয়ে কাজ করব। আমরা কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যাই। পরে যখন সবার এত সহযোগিতা পাই তখন অনেক উত্সাহ নিয়ে কাজ শুরু করি। মাইক্রোবায়োলজি ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রামাসা আবেগী ভাষায় বলেন, আকুতি আজ নিবেদিত মনের ছাত্রদের নিয়ে সত্যিকার অভাবী মানুষদের সাহায্য দানে উত্সাহীত মানুষদের সেতুবন্ধন তৈরি করতে পেরেছে।

রামিসা বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) এবং আশিয়া ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে যে সাহায্য এবং সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য বিনম্র কৃতজ্ঞতা জানাই। আজ পর্যন্ত আমরা ৩০০ পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করতে পেরেছি। এছাড়া প্রতিদিনই আরো নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ‘আকুতি’র মাধ্যমে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর আমরা আমাদের সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চাল, আটা, ডাল তেল ইত্যাদি ক্রয় করে নিজেরা মিলে সুরক্ষিত ব্যাগে সংরক্ষণ করি। ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে আমরা এই পরিস্থিতিতে বিপদগ্রস্থ মানুষদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণেরসামগ্রী জোগাড় করি। এ পর্যন্ত আমরা মিরপুর, উত্তরা, বসুন্ধরা, মোহাম্মদপুর এবং দক্ষিণখান এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতা করতে পেরেছি। কিন্তু এখন আমরা এসব এলাকাসহ আরো নতুন নতুন এলাকায় সাহায্য দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমরা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি যাদের সাহায্য করছি তাদের নিরাপত্তার খেয়ালও রাখছি।