ট্রাম্পের জীবন কঠিন করে তুলছেন বাইডেন

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ২১:৪১

শিফারুল শেখ

 

গত বছর এপ্রিলের ঘটনা। রাশিয়ার সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ ও সে বিষয়ে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার কোনো প্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় দ্বিতীয় বারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের তেমন সংশয় ছিল না। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এতে কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ পড়লেও ট্রাম্প বাইডেনকে স্বাগত জানান এবং ‘স্লিপি জো’ বলে আখ্যা দেন। সেই ‘স্লিপি জো’ই ট্রাম্পের জীবনকে কঠিন করে তুলছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাইডেন ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা আছে।

 

অন্ধকার দূর করতে পারবেন বাইডেন?

জো বাইডেন দলের সম্মেলনে বলেছেন, বর্তমানে আমেরিকা একটা অন্ধকার যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই সেই আধার কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন বাইডেন। বর্তমানে আমেরিকা একনায়কের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্প হারলে মার্কিনিরা একজন একনায়কের হাত থেকে মুক্তি পাবে। অর্থাত্ দেশে গণতন্ত্র ফিরবে। কিন্তু সেটা কতটা সম্ভব তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে ওবামার আমলে তার আট বছর ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের অভিজ্ঞতা। প্রায় অর্ধশতক ধরে তিনি রাজনীতির মঞ্চে লড়ছেন। দেশের শ্রমজীবী মানুষের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। এর আগে ১৯৮৮ ও ২০০৮ সালেও তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নেমেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। ছেলের মৃত্যুর কারণে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ওবামা প্রথম দিকে বাইডেনকে সমর্থন দেননি। বাইডেন নিজে বলেছিলেন, নিজস্ব গুণেই তিনি দল ও দেশের সমর্থন আদায় করতে চান। আর এখন কেবল ওবামা নয়, তার স্ত্রী মিশেল ওবামা, এমনকি রিপাবলিকানরাও বাইডেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বাইডেন দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের অধীনে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রানিংমেট হিসেবে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, হ্যারিসের নাম ঘোষণার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাইডেন-হ্যারিস প্রচার অভিযানের জন্য দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার চাঁদা জমা পড়েছে।

 

ট্রাম্পের জীবন কঠিন হচ্ছে

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেবেছিলেন, তার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি অনায়াসে জিতে যাবেন এবং দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসবেন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার সেই আশা গত বছরই ধাক্কা খায় যখন বাইডেন প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। তিনি জোর নির্বাচনি প্রচারণা চালালেও নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের দিক দিয়ে বাইডেন-হ্যারিস জুটি এগিয়ে। জনমত জরিপেও বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে। এরই মধ্যে রিপাবলিকান নেতা, সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এমনিক রিপাবলিকানরা বাইডেনের পক্ষে কমিটিও করেছে, যা রেকর্ড। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট কমিটিও বলেছে, ট্রাম্পকে জেতাতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা আর বাইডেনের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকানদের কাছে টানছে। ট্রাম্পের কয়েকজন উপদেষ্টাও গ্রেফতার হয়েছেন যারা আগের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পর্ণ তারকা. ট্যাক্স রিটার্ন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ, মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা সবই এখন ট্রাম্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনে হারলে ট্রাম্পের অবস্থা কী হবে তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।

 

ট্রাম্পের শত্রু করোনা

করোনা ভাইরাস প্রায় সব দেশেই সংকট সৃষ্টি করলেও অন্য কোনো উন্নত দেশ আমেরিকার মতো বিপর্যস্ত হয়নি। ট্রাম্প শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতির এত অবনতি ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মতে, অযোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করলে এমনটাই ঘটে। হ্যারিসের মতে, দেশের মানুষ নতুন নেতৃত্বের জন্য আকুল হয়ে রয়েছেন।