কৃষি

নদীর নতুন চরে কৃষি

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫০

বাংলাদেশের কৃষি খুবই বৈচিত্র্যময়। কৃষির যেমন অনেক সমস্যা তেমনই অনেক সম্ভাবনাও রয়েছে। সেসব সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনা সৃষ্টি করা যেতে পারে আমাদের অর্থনীতির জন্য। তেমনই একটি সমস্যা হলো বাংলাদেশের চর এলাকা। স্বাভাবিকভাবে কৃষিজমিতে যেসব ফসল ফলানো যায়, চর এলাকায় সেভাবে ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। সেখানকার জমির ধরন যেমন আলাদা তেমনই ফসলের ধরন এবং চাষাবাদের ধরনও সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে যেমন অনেক নদ-নদী রয়েছে, তেমনি সেসব নদ-নদীর রয়েছে অনেক চর এলাকা। শুধু যে চর এলাকা রয়েছে তাই নয়, নতুন নতুন চর সৃষ্টি করে চলেছে সেসব নদী। কারণ, নদীর এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে। সেভাবে প্রতি মুহূর্তেই নদীর তীরে পলি জমে জমে নতুন নতুন চর গঠিত হয়।

চরে কী কী ফসল উত্পাদন করা যায়, কীভাবে সহজ পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিকভাবে এসব চরে অর্থকরী ফসল উত্পাদন করা যায়—সে বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। দেখা যায়, চর এলাকায় বেলে, বেলে-দোআঁশ এবং পলিমাটিতে সব ধরনের ফসলই ফলানো সম্ভব। তবে সেখানে শাক-সবজি উত্পাদনই সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক। চর এলাকায় শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি উত্পাদিত হয় সবচেয়ে বেশি। কারণ গ্রীষ্মকালে সেখানে ফসল উত্পাদন করতে গেলে অনেক সময় বন্যা এবং বৃষ্টিপাতে সেগুলোকে নষ্ট করে দেয়। সেজন্য শীত মৌসুমে অনেক মূল্যবান ও অর্থকরী ফসল ফলানো হচ্ছে এসব চরাঞ্চলে।

শীতের শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাঁটা, ঢেঁড়শ, ব্রকলি, টমেটো, শীতলাউ, শিম, ধনিয়া, মূলা, লালশাক, পালংশাক, বেগুন, লাউশাক ইত্যাদি। ফলের মধ্যে রয়েছে শশা, বাঙ্গি, খিরা, তরমুজ ইত্যাদি। মাঠ ফসলের মধ্যে রয়েছে গম, কাউন, ভুট্টা, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, আলু ইত্যাদি। চরের মাটি খুবই উর্বর ধরনের। এখানে অল্প চাষে জমি প্রস্তুত করে ফসল বুনে দেওয়া যায়। সেখানে সার, কীটনাশক, আগাছা নিড়ানো, সেচ ইত্যাদি আন্তঃপরিচর্যা কিংবা যত্ন করা বাবদ খরচ খুবই কম। যে কারণে এসব শাক-সবজি কিংবা মাঠ ফসল স্বাভাবিকভাবে কোনো জমিতে আবাদের যে পরিমাণ খরচ, চর এলাকায় আবাদের ক্ষেত্রে খরচ কম হয় বিধায় সব পরিমাণ আবাদে কৃষকের অনেক লাভ থাকে।

আমরা পত্রিকান্তরে দেখতে পাই দেশের উত্তরাঞ্চলে আগে যেসব এলাকায় নদী ভাঙন কিংবা এক-ফসলি জমি থাকার কারণে কৃষকের একসময় কোনো কাজ থাকত না, তখনই মঙ্গা বা এ-ধরনের অভাব-অভিযোগের কথা শোনা যেত। কিন্তু কৃষিফসলের বৈচিত্র্য আসায় এবং সময় সুযোগে সেগুলো সেসব এলাকার কৃষকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেওয়ার কারণে সেসব এলাকায় এখন আর মঙ্গা দেখা দেয় না।

বর্তমানে চর এলাকায় দেশি-বিদেশের অনেক সংস্থা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসছে, যা প্রকারান্তরে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখতে সহায়তা করবে।

n লেখক : কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]