খুলনাকে অনায়াসে হারালো ঢাকা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৬

ঢাকা ডায়নামাইটসের পারফরম্যান্সে খুব বেশি হেরফের হয়নি। প্রথম ম্যাচের তুলনায় বিচার করলে সঠিক কক্ষপথেই ছিল ঢাকার পারফরম্যান্স। তবে অবনমন হয়েছে খুলনা টাইটান্সের দলগত পারফরম্যান্সে। প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়লেও গতকাল ঢাকার দাপটের সামনে যেন আত্মসমর্পণ করেছিল খুলনা। গতকাল একপেশে ম্যাচে খুলনাকে ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা। অন্যদিকে দুটি ম্যাচই জিতেছে সাকিবের ঢাকা। গতকাল প্রথমে ব্যাট করে হযরতউল্লাহ জাজাইয়ের হাফ সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে ১৯২ রানের বড় পুঁজি গড়েছিল ঢাকা। জবাবে ১৩ ওভারে ৮৭ রানেই গুটিয়ে যায় খুলনার ইনিংস। শেষ ব্যাটসম্যান আলী খান চোটে পড়ায় আর ব্যাটিংয়ে নামেননি। ঢাকার আফগান ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই ম্যাচ সেরা হয়েছেন।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিরুত্তাপ ম্যাচটি গতকাল মঞ্চস্থ হয়েছে। শক্তিশালী ঢাকা হেসে খেলেই হারিয়েছে খুলনাকে। টস হেরে ব্যাট করতে নামা ঢাকার ইনিংসের সুরটা ধরিয়ে দিয়েছেন ওপেনাররা। প্রথম ম্যাচের মতোই বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন জাজাই ও সুনীল নারিন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে এই জুটি যখন বিচ্ছিন্ন হয় ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে উঠেছে ৬৭ রান। নারিন ১৯ রান করে ডেভিড উইজের শিকার হন। তার আগে ব্যক্তিগত ১২ রানে উইজের হাতেই জীবন পেয়েছিলেন জাজাই।

শরীফুলের বলে মিড অনে ক্যাচ ফেলেছিলেন উইজ। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে জাজাইয়ের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েছিল খুলনা। আম্পায়ার ওয়াইড ঘোষণা করেছিলেন। রিভিউতে ২-৩ মিনিট ব্যয়ের পর আম্পায়ার নটআউট ঘোষণা করেন। যদিও বলটা জাজাইয়ের গ্লাভসে লেগেছিল বলেই রিপ্লেতে মনে হয়েছে। স্নিকোমিটার, আল্ট্রা এজ না থাকায় এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক থেকেই গেল।

দুবার বেঁচে যাওয়ার পর শরীফুলের পঞ্চম ওভারে তোপ দাগিয়েছেন জাজাই। ওই ওভারে তিন ছক্কা, দুটি চারে ২৭ রান তোলেন এ আফগান। নারিন ফেরার পর ওয়ান ডাউনে উইকেটে এসে কার্যকর ইনিংস খেলেছেন রনি তালুকদার। মাহমুদউল্লাহকে এক ওভারে মেরেছেন দুটি ছক্কা। একই বোলারের শিকার হওয়ার আগে রনি তালুকদার ১৮ বলে ২৮ রান করেন। ২৫ বলেই বিপিএলে টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জাজাই। পরে স্টারলিংয়ের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৫৭ রান (৩ চার, ৫ ছয়) করেন তিনি। মিডল অর্ডারে পোলার্ডের ২৭, আন্দ্রে রাসেলের ২৫ রানে দেড়শো ছাড়ায় ঢাকার স্কোর। শুভাগত হোম অপরাজিত ১১, নুরুল হাসান অপরাজিত ৯ রান করেন। খুলনার পক্ষে উইজ-স্টারলিং দুটি করে, মাহমুদউল্লাহ-আলী খান একটি করে উইকেট পান।

ঢাকার দেওয়া ১৯৩ রানের টার্গেট খুলনার ব্যাটিং লাইনের জন্য বিষম চাপ হয়ে পড়েছিল। টপঅর্ডারে জুনায়েদ সিদ্দিকী কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও স্থায়ী হতে পারেননি। তিনি ছাড়া আর মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। ৬০ রানে পাঁচ উইকেট হারানো খুলনা থেমে যায় ৮৭ রানে। জুনায়েদ ৩১, আরিফুল হক অপরাজিত ১৯, নাজমুল শান্ত ১৩ রান করেন। ঢাকার বোলারদের মধ্যে সাকিব তিনটি, নারিন দুটি, শুভাগত হোম ও মোহর শেখ একটি করে উইকেট নেন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ডায়নামাইটস       : ২০ ওভারে ১৯২/৬

খুলনা টাইটান্স             : ১৩ ওভারে ৮৭

ফল           : ঢাকা ডায়নামাইটস ১০৫ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা   : হযরতউল্লাহ জাজাই