বিচিত্র প্রকৃতি

পৃথিবীর মজার গাছপালা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ১৬:৫৩

তোতা ফুল

উত্তর থাইল্যান্ড, বার্মা এবং ভারতের মনিপুর রাজ্যে একধরনের ফুল জন্মায়। অবাক হওয়ার বিষয়টি হলো- বুনো এই ফুলটি দেখতে একদম উড়ন্ত তোতা পাখির মতো। এই ফুল দোপাটির স্বগোত্রীয়।

এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Impatiens psittacina । এ এইচ হিল্ডেব্রান্ড বার্মার শান স্টেটে এই মজার উদ্ভিদটিকে আবিষ্কার করেন। ১৮৯৯ সালে কিউ-এর রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেনে এর বীজ উপহার দে্ওয়া হয়। সেখানে ১৯০০ সালে ফুল ফোটে। ১৯০১ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞানী জোসেফ ডাল্টন হুকার এই উদ্ভিদের বর্ণনা প্রদান করেন।

এই উদ্ভিদ লম্বায় প্রায় ৫০ সেমি হয়, পাতা ৬ সেমি লম্বা হতে পারে। ফুল প্রায় ৫ সেমির মতো লম্বা হয়। অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ফুল ফোটে। ফুলের রং হালকা বেগুনি এবং গাঢ় লাল হয়। সাধারণত সমুদ্রসৈকত অঞ্চলে যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা অনেক বেশি সেখানে এই উদ্ভিদ জন্মায়।

 

টাইটান এরাম

পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো অশাখ পুষ্পমঞ্জরীবিশিষ্ট উদ্ভিদ টাইটান এরাম। এর গন্ধ পচা মাংসের মতো। তাই এর আরেক নাম মৃতফুল। এই ফুলটি প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর মাত্র একটি জায়গায় ফোটে। তা হলো ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। এ ফুল ১০ বছরে একবার মাত্র ফোটে। এই ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম Amorphophallus titanum । এদের বেশির ভাগ পাওয়া যায় সুমাত্রা দ্বীপের রেইন ফরেস্ট এবং চুনাপাথরের পাহাড়গুলোতে। ইন্দোনেশিয়ায় এই ফুলটি bunga bangkai নামেই বেশি পরিচিত। এদের আকৃতি হয় সর্বোচ্চ ৩ মিটার পর্যন্ত। একেকটি ফুলের ভর হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি। এর একটি পাপড়ি মরে গেলেও সেখানে আরেকটি নতুন পাপড়ি জন্ম নেয়। সবচেয়ে বড়ো কথা- এই ফুল পচা মাংসের গন্ধ ছড়ায়।

এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল, এর ব্যাস ৯০ সেমি এবং এর গড় ওজন ১০ কেজি। এটি পাওয়া যায় মূলত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডে।

বাদুড় ফুল

বাদুড় ফুল

উড়ন্ত বাদুড়ের মতো দেখায় বলে একে ব্যাট ফ্লাওয়ার বা বাদুড় ফুল বলে। এটি টাক্কা গাছ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Tacca chantrieri, এটি Dioscoreaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ভালো করে দেখলে কালো রঙের রসালো মঞ্জরীপত্র দ্বারা ঢাকা এই ফুলগুলোকে মনে হবে বাদুড় যেন তার মুখটা হা করে রেখেছে। কিছু কিছু ফুলকে দেখলেই হিংস্র ও ভয়ংকর বলে মনে হয়, তাই হয়তো এর আরেক নাম ডেভিলস ফ্লাওয়ার। এই বাদুড়মুখো ফুলটি চীনের ইউনান প্রদেশে দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া থাইল্যান্ড এবং বার্মায়ও এই ফুল দেখতে পাওয়া যায়। ব্যাট ফ্লাওয়ার যদিও অস্বাভাবিক দেখতে, কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে এবং বিভিন্ন বাগানে একে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এই ফুল বাগানের পরিবেশের চেয়ে বনেই ভালোভাবে জন্মায়।

অদ্ভুত এই ফুলটির প্রথম পরিচয় পাওয়া যায় ইউরোপ এবং আমেরিকায় গত শতাব্দীতে। আজ এটি একটি উদ্ভট ফুল হিসেবে পরিচিত-যা গাঢ় বেগুনি (প্রায় কালো) রঙের মতো দেখায়। এলাকার বাইরের কিছু লোক এই ফুলগুলোর গঠন দেখে তাদের অশুভ মনে করে। এই ফুলগুলোকে যদিও ক্ষতিকারক মনে হতে পারে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে এরা কোনো ক্ষতি করে না। এই গাছগুলো সাধারণত তিন অথবা চারটি পূর্ণ আকারের পাতা উৎপন্ন করে। প্রতিটি গাছ আবার ছয় থেকে বারোটির মতো ফুল উৎপন্ন করতে পারে। যখন বীজ ক্যাপসুল দৃষ্টিগোচর হয় সেই সময় দেখতে অনেকটা এলিয়েনের মতো দেখায়।