>> এস এন ইসলাম
রাজধানীর অধিকাংশ স্কুল-কলেজই চার দেয়ালের ছোট্ট শ্রেণিকক্ষবিশিষ্ট ফ্য্লাট-ভবনে সীমাবদ্ধ! যেখানে খেলাধুলা তো দূরের কথা, আকাশ দেখারও সুযোগ নেই শিক্ষার্থীদের। পাড়া-মহল্লায় কোথাও মাঠ থাকলেও সেখানে পরিবেশ নেই। ফলশ্রুতিতে শিশু-কিশোর এমনকি তরুণরাও ঘরবন্দী, নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ছে এবং বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষামূলক কার্যক্রম তথা প্রকৃত মেধা চর্চা। এমন পরিস্থিতিতে দুই শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা— প্রকৌশলী এম এ রশিদ ও অধ্যক্ষ হামিদা আলী রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে সবুজ মাঠবেষ্টিত উন্মুক্ত আদর্শ স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। যেখানে আধুনিক ক্যাম্পাসের পাশাপাশি নোট, সাজেশন ও মুখস্তনির্ভর পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে সৃজনশীল পদ্ধতিতে মূল পাঠ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট, স্মার্ট ক্লাস ও ই-লাইবে্রির তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার এক ভিন্ন ধারা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। ২০০২ সালে মাত্র ২০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বতৃমানে প্রায় ১২ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এখানে পড়ালেখা করছে। প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন ও ইংলিশ মিডিয়ামের এই প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, মিরপুর ও উত্তরা মিলে মোট ৬টি শাখা। সম্প্রতি চালু করা হয় উত্তরা ২য় শাখা। শুধু সুরম্য ভবনই নয়, এর প্রত্যেক শাখায় আছে বিরাটাকার অডিটরিয়াম, হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধাসহ আধুনিক ই-লাইব্রেরি, ল্যাব, এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিনও। শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে সাউথ পয়েন্ট ভালো করেছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সম্মিলিত মেধাতালিকায় ঢাকা মহানগরে শতভাগ পাসের ভিত্তিতে সাউথ পয়েন্টের স্থান— ষষ্ঠ। প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ, বারিধারা ও মিরপুর শাখার কোথাও কোনো অকৃতকার্য নেই। শুরু থেকেই এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বমোট ২৯৬ জন। বাংলা মাধ্যমে মোট ২৭৬ জন অংশগ্রহণকারীর সকলেই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৯ জন। ইংরেজি মাধ্যমের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৭৬ জন, এর মধ্যে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৭ জন।
এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি খুশী প্রতিষ্ঠানটির বারিধারা শাখার শিক্ষার্থীরা। এই শাখা থেকে ১৩৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০০ জন এবং অবশিষ্ট সকলেই ৪.৫ গ্রেডসহ ‘এ’ পেয়েছে। গত বছর গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথ পয়েন্টের। এ বছরও ভালো করেছে তারা। পিছিয়ে নেই বনানীর ইংরেজি মাধ্যম শাখাও। শুরু থেকেই ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় কান্ট্রি হায়েস্ট রিজাল্ট অর্জনের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং ক্যামব্রিজ লার্নার অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘ডেইলি স্টার অ্যাওয়াডর্’ অর্জন করে। জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের PASCH প্রোগ্রামের আওতায় জার্মান ভাষা শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে সাউথ পয়েন্ট বনানী। যার অধীনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রায়ই জার্মান সফরসহ পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি সুবিধায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। কেবল জার্মানীতেই নয়, ২০১৩ সালে বনানীর একদল শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের নাসা সফর করে এবং করোনা পরিস্থিতির আগে এই শাখারই আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগীকার্তায় অনুষ্ঠিত হওয়া গ্লোবাল সিটিজেনশিপ ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করে। অন্যান্য শাখার শিক্ষার্থীরাও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অর্জন করছে অভূতপূর্ব সাফল্য। আর এভাবেই সৃজনশীল ও সময়োপযোগী শিক্ষাদানের মাধ্যমে অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
