ভোটের পর পাহাড়ে অস্থিরতা, আতঙ্ক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৭

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস সংস্কার গ্রুপের নেতা বসু চাকমা হত্যার ঘটনায় বিবদমান পক্ষগুলোর মাঝে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কখন কার উপর গুলিবর্ষণ হয়-এই নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাহাড়ে এখন অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচনে সৃষ্ট দলাদলিকে ঘিরে পাহাড়ে আবারো অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। রাঙ্গামাটি জেলায় জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী উষাতন তালুকদার এবং খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নতুন চাকমার হেরে যাওয়ার পর সংঘাত বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ের মানুষের ভোটাধিকার এখন আর তাদের হাতে নেই। তারা চাইলেই কোনো দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন না। অস্ত্রধারীরা যেখানে ভোট দিতে বলে সেখানেই তারা ভোট দিতে বাধ্য হন। ফলে অপর পক্ষের রোষানলে পড়তে হয় সাধারণ ভোটারদের।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, পাহাড়ে নৌকায় কেন এত বেশি ভোট পড়েছে তার জন্য ভোটারদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন বেড়ে গেছে। এ নিয়ে মুখও খুলছেন না কেউ। সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা শুধু বলেন, ‘আমরা ভালো নেই।’

অভিযোগ উঠেছে, ভোটের আগের দিন চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা দুর্গম এলাকার অনেক ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে নেয়। এ জন্য প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাঙ্গামাটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেএসএস সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। তিনি বলেন, ‘জেএসএসের সংস্কারপন্থিরা ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে এবং যেসব ভোটার সিংহ মার্কায় সিল মেরেছে সেসব ব্যালট পেপার ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।’

জানা গেছে, এতদিন জেএসএস সংস্কারপন্থিদের সঙ্গে মূল ইউপিডিএফের মধ্যে বিরোধ চলমান থাকলেও মূল জেএসএসের সঙ্গে কোনো সংঘাত ছিল না। অপরদিকে জেএসএস মূল দলের পক্ষ হয়ে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছে অপর আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ; কিন্তু এ নির্বাচনে সংস্কারপন্থিরা জেএসএসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করায় বেশ ক্ষুব্ধ মূল জেএসএস। ভোটের দিন মূল জেএসএস ও সংস্কারপন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়। অপহরণ করা হয় উভয় পক্ষের ৯ জনকে। এখনো এদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নির্বাচনের আগে খাগড়াছড়িতে দুইপক্ষের বন্ধুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনের ৫ দিনের মাথায় গত ৪ জানুয়ারি বাঘাইছড়ির বসু চাকমাকে হত্যা করা হয়।

জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে আমরা চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে বর্তমান সরকারের পক্ষে কাজ করেছি। আমরা তো দেখেছি গত ৫ বছর জেএসএস-এর স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদে ছিলেন; কিন্তু কোনো কাজ করতে পারেননি। শুধু নিজের আখের গুছিয়েছেন। তাই আমরা এবার নৌকার পক্ষে কাজ করেছি। গ্রামের সাধারণ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তাই নৌকা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। তারই প্রতিশোধ হিসাবে আমাদের নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

এদিকে ইউপিডিএফ-এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, এটি তাদের (জেএসএস-সংস্কার) দলীয় কোন্দল। তারা নৌকার পক্ষে থেকে বিশাল অংকের টাকা নিয়েছে। টাকা ভাগাভাগিতে তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।