বাউফলে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৩

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

বাউফলে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের  অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা উপক্ষো করে বিদ্যালয়গুলো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়েছে মহাবিপাকে। এলাকার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়। বিশেষ করে গরীব অভিভাবকরা অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করতে অনেকেই মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে ফরম পূরণ করছে। এমনকি অনেক অভিভাবক হালের গরু বিক্রি এবং মহাজনদের কাছে অলংকার বন্ধক রেখে  টাকা এনে ফরম পূরণ করছে।

জানা গেছে, চলতি বছরে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও কেন্দ্র ফি’সহ সর্বোচ্চ ১৬৩০, বিজ্ঞান বিভাগে ১৭২০ টাকা। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ১শ’ টাকা করে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উল্লিখিত ফি ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ হাই স্কুলগুলোতে সরকারের নিয়মকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করছেন। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোর্ড ফি, কোচিং ফি, সেন্টার ফি নামে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকা নিলেও কিছু কিছু বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার কোচিং করানো হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাউফল পৌর শহরে অবস্থিত আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের এক হতদরিদ্র শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, মেয়েকে বিদ্যালয়ের স্যারেরা ৩৭৫০ টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করতে বলেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩৬৫০ টাকা করে।

প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম  বলেন, বোর্ড নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না। 

বাউফল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নার্গিস আরা বলেন, সমিতির সিদ্ধান্ত বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ফি নেওয়া যাবে না এবং আদায়কৃত টাকার রশিদ দিতে হবে।

অথিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সহিদুল হক বলেন, কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পেলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে বলেন এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে আমরা প্রতিটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছি বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।