লালমোহনে ডিবি পুলিশের ওপর মাদক ব্যবসায়ীদের অর্তকিত হামলা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ২২:১৭

ভোলার লালমোহনে ইয়াবার চালানসহ ১০ মামলার আসামিকে আটক করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের অর্তকিত হামলায় কাওছার হোসেন (৪০) নামের এক ডিবি পুলিশ সদস্য মারাত্মক জখম হয়েছেন। জরুরি অবস্থায় তাকে ঢাকার নিউরোলোজিক্যাল হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। 

ভোলা জেলা ডিবি’র ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, আহত কাওছারের সঙ্গে এখনও কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে লালমোহন থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভোলা ডিবি পুলিশের এসআই শংকর কুমার ঘোষ বাদি হয়ে স্থানীয় চরছকিনা গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মিরাজ মাতাব্বরকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

মামলার এজাহার, লালমোহন থানা পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গত রবিবার রাতে লালমোহন পৌর এলাকার ১০ নং ওয়ার্ডের চরছকিনা গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মিরাজ মাতাব্বরকে ধরতে ভোলার ডিবি পুলিশের ৬ সদস্য অভিযান চালায়। এসময় মিরাজকে তার বাড়ি থেকে আটক করে ডিবি। আটক মিরাজকে ডিবির হাত থেকে ছাড়িয়ে নিতে মিরাজের সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা ডিবি পুলিশ সদস্যদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে মিরাজের সহযোগী মাসুম বিল্লাহ ইট দিয়ে পিটিয়ে ডিবি পুলিশের সদস্য কাওছার  হোসেনের মুখমন্ডল থেতলে দেয়। কাওছার হোসেন রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে পরে থাকে অনেক্ষন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ী মিরাজ ও তার সহযোগীদের হামলায় আহত হন ডিবি পুলিশের আরো পাঁচ সদস্য। ঘটনার পর থেকে মিরাজ মাতাব্বর পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে হামলায় অংশ নেয়া মিরাজ মাতাব্বরের স্ত্রী মমতাজ ও মিছির আলী নামের দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

লালমোহন থানার ওসি মীর খায়রুল কবীর জানান, ডিবি পুলিশের উপর হামলার প্রধান আসামী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মিারাজ মাতাব্বরের বিরুদ্ধে জালটাকা, চুরি, মানুষকে নেশা খাইয়ে অজ্ঞান করা, ইয়াবাসহ নানান ধরনের মাদক বিক্রি ও অপরাধ মুলক কর্মকন্ডের অন্তত ১০টি মাদক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী ২৭০পিস ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল মিরাজ। এ ছাড়া সর্ব শেষ গত ১৩ আগষ্ট তার বিরুদ্ধে জিআর মামলা হয়। এতসব অপরাধ করেও স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় মিরাজ মাতাব্বর লালমোহন উপজেলা জুড়ে ইয়াবার বিস্তার ঘটাচ্ছে। ২৩ আগষ্ট সন্ধ্যায় পাইকারদের কাছে বড় ধরনের ইয়াবার চালান হস্তান্তরের তথ্য পায় ডিবি। পরে ইয়াবার হস্তান্তরের সময়ই মিরাজকে আটক করা হয়েছিল। 

ইত্তেফাক/এসি