বন্যায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই ত্রাণ পাননি

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০৮

বন্যায় ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই ত্রাণ পাননি। এক্ষেত্রে যারা যোগ্য নন অথবা যারা অন্যান্য সহায়তা পেয়েছেন অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিচিত তারাই বারবার সহায়তা পেয়েছেন। অপর পক্ষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা অনেকেই এর আওতার বাইরে থেকে গেছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফামের উদ্যোগে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ত্রাণ ও নগদ সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত সুবিবধাভোগীদের টেলিফোন সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে তৈরি করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংলাপে সিপিডির গবেষক মোস্তফা আমির সাব্বিহ গবেষণার উপস্থাপনা তুলে ধরে বলা হয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শুধু তাদের দলীয় এবং পরিচিত মানুষদের কাছ থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল ফোন নাম্বার নিয়েছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগ্য ব্যক্তিরা আবেদন করলেও তাদের বলা হয়েছে এই সুবিধা শুধু সরকারদলীয় ব্যক্তিদের জন্য। সামগ্রিকভাবে বন্যায় চাল বিতরণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চাহিদার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। যেসব এলাকায় বেশিসংখ্যক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেমন—জামালপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ; সেখানকার কমসংখ্যক পরিবার এই সুবিধার আওতায় ছিল। অন্যদিকে চাঁদপুর ও গোপালগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও সেখানে শতভাগের বেশি পরিবার এই সুবিধার আওতায় ছিল।

পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে করোনা ভাইরাস মহামারি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের বরাদ্দ সহায়তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছায়নি। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনা মহামারির মধ্যে জুলাই মাসে দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। এই পরিস্থিতিতে সরকার তালিকাভুক্ত অভাবী মানুষদের জন্য নগদ আড়াই হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা ও চাল বরাদ্দ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কর্মহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছেন, যা মোট শ্রমশক্তির ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় স্থলভাগের ২৯ শতাংশ তলিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটেই সরকার বিনা মূল্যে খাদ্যসহায়তা, নগদ সহায়তার মতো কর্মসূচি হাতে নেয়। অনেকে সময় ত্রাণের আড়াই হাজার টাকার জন্য এসএমএস আসলেও পরে টাকা আসেনি। যাদের টাকা আসেনি তারা যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। অনেক ক্ষেত্রে অধিক অভাবী ও অতি দরিদ্র মানুষকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

‘করোনা ও বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ কর্মসূচি : সরকারি পরিষেবার কার্যকারিতা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপটির সহযোগী আয়োজক ছিল আরডিআরএস বাংলাদেশ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে সিপিডি ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কোনো প্রক্রিয়ায় কাদেরকে ত্রাণ দেওয়া হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রচারণা মাঠে ছিল না। সে কারণেই অনেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুরের কাউনিয়ার এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বলেন, ১১০০ লোককে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অথচ সেখানে ১১ হাজার মানুষকে দেওয়া উচিত ছিল। সেই কারণে অভিযোগ আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একজন এনজিওকর্মী অভিযোগ করেন, ত্রাণ দেওয়ার আগে ৯০০ ব্যক্তির কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের অর্ধেক মানুষও ত্রাণ কিংবা সহায়তা পাননি।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য প্রচারের কাজ আরো বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি মোবাইলে অর্থ স্থানান্তরের মেসেজ পেয়েও যারা নগদ অর্থ পাননি তাদের সরাসরি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।