করোনাকালের দিনপঞ্জি-১৫

ধৈর্য ও মনোবল থাকলে সব দুঃসময় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব : ইয়ানাত তূর্ণ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২০:৩৬

আমার নাম ইয়ানাত তূর্ণ। আমার বয়স ৫+। আমার স্কুলের নাম একাডেমিয়া। আমি এবার কেজি ওয়ানে উঠব।

চলো আগে তোমাদের বলি আমার পরিবারে কে কে আছে। আমি যৌথ পরিবারে থাকি। আমার পরিবারের সদস্যসংখ্যা ছয় জন। বাবা, মা, ভাই, দাদি, ফুপু ও আমি।

আমরা দুই ভাই একই স্কুলে পড়ি। সকাল সাতটায় আমরা ঘুম থেকে উঠতাম এবং মুখহাত ধুয়ে নাস্তা সেরে আটটায় স্কুলের জন্য বের হয়ে যেতাম। আমি ফিরতাম এগারোটায় আর ভাই ফিরত দুপুর দুইটায়। দুঃখজনক যে এখন সবকিছু অতীত।

‘করোনা’ নামক এক অদৃশ্য জীবাণু আমাদের পথচলার গতিকে পাল্টে দিয়েছে। আমরা সবাই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। হাজার ভয় এবং হারানোর কষ্ট নিয়ে আমাদের জীবন এগিয়ে চলছে। তবুও হেরে যেতে আমরা রাজি নই।     

এখন আর স্কুলের তাড়া নেই। তারপরও আমি সকাল আটটা থেকে সাড়ে আটটায় ঘুম থেকে উঠি। তারপর এক গ্লাস গরম পানিতে লেবু, কাঁচা হলুদ, ও মধু দিয়ে পান করি। এটা পরিবারের সবাই পান করে। এরপর আমি ও ভাই সকালের রোদ পোহাতে আমাদের ছাদবাগানে যাই।

ওহো, তোমাদের তো বলাই হয়নি আমাদের বাসার ছাদটা এক টুকরো সবুজের সমারোহ। অর্থাৎ আমাদের ছাদে একটা বাগান রয়েছে। এ সময় এবং বছরের অন্যান্য সময় আমরা আমাদের প্রয়োজনের আশি ভাগ সবজি এই বাগান থেকেই পেয়ে থাকি।

ছিলাম রোদ পোহানোতে, তারপর আমরা আমাদের নাস্তা সারি এবং যেহেতু আমাদের এখন কোনো কাজে সাহায্য করার লোক নেই, তাই আমরা নিজ নিজ কাজগুলো সেরে ফেলি। এরপর গোসল সেরে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই এবং বিকেল পাঁচটায় আবার ছাদে যাই। সে-সময় আমরা গাছের যত্ন নেওয়া, পানি দেওয়া এবং আধঘণ্টা সময় শারীরিক কসরত করে কাটাই।

সন্ধ্যায় আমরা দুই ভাই পড়তে বসি। যেহেতু এখন পড়ার চাপটা একটু কম তাই আমরা সন্ধ্যা সময়টাকে পড়াশোনার জন্য বেছে নিয়েছি। নিয়মিত এই রুটিনের বাইরে আমরা ঘুড়ি ওড়ানো, লুডু খেলা, ছবি আঁকা, মুভি দেখা এবং গল্পের বই পড়া- এই কাজগুলো করে থাকি।

এই দুঃসময় আমাদের অনেক কিছু যেমন কেড়ে নিয়েছে, আবার অনেক শিক্ষাও দিয়েছে। ধৈর্য, মনোবল এবং ইচ্ছে থাকলে সব দুঃসময় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

সবাই ভালো থাকবে সুস্থ থাকবে এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবে।

মডেল ও অভিনয়শিল্পী

লেখা পাঠানোর ঠিকানা : [email protected]