ছয় দফা বঙ্গবন্ধুর নিজের চিন্তার ফসল :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ২২:০১

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছয় দফা বঙ্গবন্ধুর নিজের চিন্তার ফসল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে গতকাল বুধবার ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসের কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে জাতির পিতা যে পথ দেখিয়েছেন, যে আদর্শ রেখে গেছেন,            সেই পথ ধরেই এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা শত চেষ্টা করলেও ইতিহাস মুছে ফেলতে পারেনি, ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না। তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির উত্থান হয়েছিল, তারা আমাদের বিজয়কে নস্যাত্ করতে চেয়েছিল। আমি মনে করি, এখন আর সেই সুযোগ নেই। ইতিহাস তার আপন গতিতে চলে। ইতিহাস কেউ মুছতে পারে না সেটা আজ প্রমাণিত সত্য।’ ইতিহাসের অনিবার্যতায় আজ জাতির পিতার দর্শন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ এরই মধ্যে একটি স্ট্যাম্প রিলিজ করেছে। বিশ্বনেতারা বিভিন্ন দেশে অনেক কর্মসূচি নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছয় দফা প্রণয়ন নিয়ে অনেকে অনেকভাবে বলতে চায়। কেউ এর পরামর্শ, ওর পরামর্শ বলতে চায়। কিন্তু আমি নিজে জানি যে এটা তার (বঙ্গবন্ধুর) সম্পূর্ণ নিজের চিন্তার ফসল। কারণ তাকে গ্রেপ্তার করা হলো ১৯৫৮ সালে এবং তিনি ১৯৫৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর মুক্তি পান, সেই সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ। (তিনি) ঢাকার বাইরে যেতে পারতেন না, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তখন তিনি চাকরি নিলেন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে। তখন তাজউদ্দীন সাহেব গ্রেপ্তার ছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে উনি একটা চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। বঙ্গবন্ধু নিজে গিয়ে তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে এসে আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি দিলেন। মোহাম্মদ হানিফকেও আলফা ইন্স্যুরেন্সে চাকরি দেন তার পিএ হিসেবে। বঙ্গবন্ধু সব সময় নিজে বসে বসে চিন্তা করতেন, নিজেই লিখতেন এবং হানিফকে দিয়ে এটা টাইপ করাতেন। এখানে শুধু একমাত্র হানিফ জানতেন, তিনিই টাইপ করেছিলেন, এছাড়া কিন্তু আর কারো জানা ছিল না। এটা সম্পূর্ণ তার (বঙ্গবন্ধু) নিজের চিন্তা থেকে এই ছয় দফাটা কিন্তু তৈরি করা।’

ছয় দফার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ছয় দফা আন্দোলন একপর্যায়ে এক দফা আন্দোলনে পরিণত হয়। এই ছয় দফার ওপর ভিত্তি করেই মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় অর্জন। এত অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ কোনো বিষয়ে বুকের রক্ত দিতে পারে এটা ছিল অভাবনীয়। বঙ্গবন্ধুর এই ছয় দফার বিরুদ্ধে পাকিস্তানে তো ছিলই, এদেশেও দালাল তৈরি হয়। ছয় দফার পরিবর্তে আট দফা প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তখন বঙ্গবন্ধু  জেলে। কিন্তু আমার মা ফজিলাতুন্নেছা অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ছিলেন। আমার মা এ ব্যাপারে খুবে সচেতন ছিলেন। আমাদের অনেক বড় বড় নেতা আট দফার দিকে ঝুঁকে গিয়েছিলেন, সেটি সত্যিই খুব লজ্জাজনক। তবে আমাদের বাড়িতে আওয়ামী লীগের মিটিং হয়, সেখানে ছয় দফার পক্ষেই সিদ্ধান্ত হয়।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের প্রমুখ। ‘শতবর্ষে শত পুরস্কার’ শীর্ষক অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ৩ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ২ লাখ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ টাকার চেক ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী আজ ৩১ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিতকরণে আজ বৃহস্পতিবার দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট, ১১টি গ্রিড সাবস্টেশন ও ছয়টি নতুন সঞ্চালনলাইন উদ্বোধন করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে মোট ২৮৮টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে।