একাধিক ব্যক্তির ফোন কল রেকর্ড করে ব্লাকমেইল, থানায় জিডি 

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ১৫:৩৮

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একাধিক ব্যক্তির ফোন কল রেকর্ড করে ব্লাকমেইল করার অভিযোগে জেড এম রানা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন স্কুলটির হেড অব অ্যাডমিন আরিফুল হাসান মীর সাগর। বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় এ জিডি করেন তিনি।

জিডিতে আরিফুল হাসান মীর সাগর উল্লেখ করেন, জেড এম রানা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অনলাইন গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে নানা রকম বদনাম ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে। আমিসহ আমাদের বিদ্যালয়ের হেড অব স্কুল, অর্থ পরিচালক, একাডেমিক উপদেষ্টা, লজিস্টিক হেড, আইটি হেড ও  অন্যান্যদের সেল ফোনের কল রেকর্ড করে বিভিন্নজনকে সেই অডিও ক্লিপ পাঠিয়ে আমাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করার ঘৃণ্যতর কাজে লিপ্ত রয়েছে, যা বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সম্মানিত কর্মকর্তাদের সম্মান এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের এভারোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয়াদি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বরাবরে মেইল ও সিসি এর মাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করেছে, যা প্রতিষ্ঠানের অর্জিত ভাবমূর্তি ও সুনামের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি উপায়ান্ত না পেয়ে নিজের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতাকে আড়াল করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে নানাজনকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে। আমাদেরসহ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে, যা শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। এমতাবস্থায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা পূর্বক আপনার দপ্তরে সাধারণ ডায়রিভুক্ত করে পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আজ্ঞা হয়।’
স্কুলের অর্থের হিসাব চাইতে গিয়ে জেড এম রানার সঙ্গে দ্বন্দ্বের শুরু

জিডিতে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের হেড অব অ্যাডমিন উল্লেখ করেন, স্কুলটির শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি দেখে ঢাকা সিটির অনেক শুভাকাঙ্খী ও অভিভাবকদের অনুরোধে (অগ্রাধিকার ভিত্তিতে) মিরপুরের রূপনগরে একটি শাখা স্থাপন করা হয়। শাখাটি পরিচালনার জন্য অংশিদারী চুক্তির ভিত্তিতে জহির মোহাম্মাদ রানা ওরফে জেড এম রানা সাহেবের সাথে চুক্তিবদ্ধ এবং তাকে শাখা প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যিনি প্রধান কার্যালয়ের নিয়োগকৃত অথরিটি হিসেবে শাখাটি দেখাশোনা করবেন এবং প্রধান কার্যালয়ের সাথে সকল বিষয় সমন্বয় করবেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার অদক্ষতা, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও মিরপুর শাখার আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে তিনি ও তার অপর অংশীদার অর্থাৎ তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করায় তাকে শাখা প্রধান থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পরে তিনি লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে আরবিট্রেশনের প্রস্তাব দেওয়ায় উভয় পক্ষের আরবিট্রেটর নিয়োগের মাধ্যমে মিরপুর শাখার আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নির্ধারনের জন্য অডিট ফার্ম নিয়োগের প্রস্তাব করলে জেড এম রানা অডিট ফার্ম নিয়োগের অস্বীকৃতি জানান। এতে তার অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।

জিডিতে আরও বলা হয়, ইতিমধ্যে তার (জেড এম রানা) ওপর অংশীদার মিসেস খালেদা আক্তার ও তার পিতা খলিলুর রহমান মারফত জানতে পারিলাম যে, জেড এম রানা মিসেস খালেদা আক্তারের থেকে নেওয়া অর্থের এবং শাখার আয়-ব্যয় এর কোনো হিসাব তাকেও দিচ্ছেন না বা দিতে চাচ্ছেন না। বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দেখাদিলে মিসেস খালেদা আক্তার তার প্রদেয় অর্থ ও লভ্যাংশ হিসাবান্তে ফেরত চান এবং ব্যবসায়ীক অংশিদার চুক্তিপত্রটিরও অবসান মর্মে জেড এম রানা বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। মিসেস খালেদা আক্তার আরও জানান যে, রানা সাহেব তার প্রেরিত পত্র পাওয়ার পর বিভিন্নভাবে ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে থাকেন এবং তাদের উভয়ের মাঝে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। যার ফলশ্রুতিতে তারা একে অপরের প্রতি অভিযোগ আনয়ন করছে। তাদের উভয়ের মধ্যে উদ্ভুত সমস্যা নিয়ে গত ১৩/০৮/২০২০ তারিখে মিসেস খালেদা আক্তার বরাবরে জেড এম রানা প্রেরিত একটি জবাবপত্রে আমাদের বিদ্যালয়ের হেড অব স্কুল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো আনিসুর রহমান সোহাগকে নিয়ে আপত্তিকর কিছু উল্লেখ করেছেন, যা নিতান্তই মনগড়া ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং মানহানিকর।

ইত্তেফাক/বিএএফ