শিবচরে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ১৮:০২

মাদারীপুরের শিবচরের বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ী ও চরজানাজাত ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঝরে পড়ছে শিশুরা। চলতি বছর ৪টি বিদ্যালয়সহ গত ১২ বছরে ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়।  

জানা যায়, চলতি বন্যায় শিবচরের চরাঞ্চলের চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়টি ২য় বারের মতো ভাঙন কবলিত হয়, এর আগে ২০১৮ সালে স্কুলটির ৩টি ভবন নদীতে বিলীন হয়। এছাড়াও চলতি বছর বন্দরখোলা ইউনিয়নের নুরুদ্দিন মাদবরকান্দি এসই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ তলা ভবন, বন্দরখোলার কাজীরসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন কাম সাইক্লোন সেন্টার, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের ৩ তলা ভবন নদীতে বিলীন হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে ৪টি বিদ্যালয় কাঁঠালবাড়ির ৪৪ নং মাগুরখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০ নং পূর্ব খাস বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭৪ নং মজিদ বেপারিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঁঠালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০১৮ সালে চরাঞ্চলের চরজানাজাত ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক স্কুল চরজানাজাত ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩টি ভবন, আ. মালেক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২ নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০১৭ সালে একটি মাদ্রাসা ও ২টি প্রাথমিক স্কুল ভবন, ২০১৬ সালে ৩০নং পূব খাসচর বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন, ২০১৫ সালে ১টি ৩ তলা ভবন, ২টি দ্বিতল ভবনের প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫টি বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়। এনিয়ে গত এক যুগে এ উপজেলায় ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ১০ হাজার পরিবার নদী ভাঙনে আক্রান্ত হয়ে নিঃস্ব হয়। এরমধ্যে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কয়েকটি স্কুলও রয়েছে। একসাথে স্কুল ও বসতভিটা হারিয়ে অনেক শিশু কিশোর শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে।

স্কুল ছাত্র রফিক বলেন, ‘আমাগো স্কুল বাড়ি ঘর সব নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। ব্রিজের ওপর আশ্রয় নিছি। করোনার জন্য স্কুল বন্ধ। কিন্তু চালু হইলে কই যে পড়মু।’

আরও পড়ুন: নজরুলকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে বঙ্গবন্ধু সম্মানিত করেছেন: ঢাবি উপাচার্য

চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আ. মালেক তালুকদার বলেন, ‘দেশের অন্যান্য চরের চাইতে আমাদের সংসদ সদস্যর নিরলস পরিশ্রমে আমাদের চরগুলো অনেক আধুনিক ছিল। বড় বড় ভবনের স্কুল, পাকা রাস্তা, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সবই ছিল। কিন্তু প্রতি বছরের ভাঙ্গনে আমরা এখন নিঃস্ব।’ 

ভাঙ্গন আক্রান্ত বন্দরখোলার নুরুউদ্দিন মাদবরেরকান্দি এস ই এস ডি পি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুলটিসহ চরাঞ্চল এত সুন্দর যে কেউ বলবেই না এটি পদ্মারচর। কিন্তু প্রতি বর্ষায় ভাঙ্গনে আধুনিক চরটি এখন বিলীনের পথে। হাজার হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলেও স্থায়ী বাঁধ না থাকায় আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া চরটি হারিয়ে যাচ্ছে।’

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহবুব বলেন, ‘২০১৮ সালে আমাদের স্কুলটির ৩টি ভবন নদীতে বিলীন হয়। অন্যত্র সরিয়ে আনলেও আবারও স্কুলটি এ বছর নদীতে বিলীন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চরের শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশুই ঝরে পড়ছে।’

শিবচর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর পদ্মার ভাঙনে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অন্যত্র উঁচু স্থানে জায়গা নির্ধারণে কাজ চলছে। স্কুল ও সংলগ্ন এলাকাগুলো ভাঙন আক্রান্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’ 

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নদী ভাঙনে প্রতিরোধে মাননীয় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী স্যারের নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে। যদি স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে এই চরাঞ্চল দেশের মধ্যে আধুনিকতার একটি মডেল চাঞ্চল্য হিসেবে রূপ নিত। চরাঞ্চলটি আধুনিক মান উন্নয়নের মডেল ছিল। সকল আধুনিক সুবিধাই এখানে বিদ্যমান ছিল। চিফ হুইপ স্যারের নির্দেশনা অনুসারে ভাঙন কবলিত স্কুলগুলোর বিকল্প স্থান নির্ণয়ের কাজ চলছে।’

ইত্তেফাক/এএএম