মাদক পাচারের নিরাপদ রুট বিশনন্দী ফেরিঘাট

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৯

নারায়ণগঞ্জ

পুলিশ সুপার কার্যালয় কয়েক মাস আগে আড়াইহাজার উপজেলার শীর্ষ ১৬ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে

 মাসুম বিল্লাহ, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ)সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ফেরিঘাটকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট  হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এই রুট দিয়ে মাদক পাচার হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর ভোরে ফেরিপারের সময় ৬টি  বস্তায় ৪০ কেজি গাঁজাভর্তি একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে পুলিশ। এ সময় ফারুক হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে সড়কগুলোতে পুলিশ থাকে না। তাই মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই মাদকের চালান নিয়ে যেতে পারে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয় কয়েক মাস আগে আড়াইহাজার উপজেলার শীর্ষ ১৬ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করে তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এরা হলো- নোয়াপাড়ার শহীদ, গাজীপুরার নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, ডহর মারুয়াদীর জসিম উদ্দিন, রামচন্দ্রদীর আবদুল হালিম, খোদেজা আক্তার খুদি, কৃষ্ণপুরার ভাড়াটিয়া রনি, কল্যান্দীর লিটন, উলুকান্দির রনি, দীঘিরপাড়ার আল আমিন, বালিয়াপাড়ার সোনা আক্তার, সোহেল, বাজবীর কানা ইব্রাহীম, মোল্লারচরের রমু, দুপ্তারার হাটখোলার সাহেদ ও গিরদা গ্রামের ডালিম। তালিকার বাহিরেও রয়েছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী। যাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৭ থেকে ১০টিরও বেশি মাদক মামলা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতার হয়ে তারা একাধিকবার কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে এসে ফের মাদক ব্যবসা শুরু করে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা হিসেবে  প্রভাবশালীদের নাম উঠে আসে। এ ছাড়া পুরো উপজেলায় ২ শতাধিক খুচরা ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।  যারা বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে মিছিল, সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নিজেদের ক্লিনম্যান হিসেবে জাহিরেরও চেষ্টা করে। ফলে পুলিশের অনেক অভিযান ভেস্তে যাচ্ছে। এ সকল বিক্রেতাদের নাম পুলিশের খাতায় নেই। এরা মাদক বিক্রিতে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। একাধিক মাদক ব্যবসায়ী জানায়, এখন আর আগের দিন নেই। ঘরে বা দোকানে রেখে ক্রেতাদের এনে খাতির করে মাদকদ্রব্য বিক্রি করতে হয় না। প্রথমত, কাস্টমার মোবাইলে তার চাহিদামতো মাদকের অর্ডার দেয়। কখনও মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমেও ক্রেতা চাহিদা জানিয়ে দেয়। পরে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে মাদক সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ পদ্ধতি অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত বলে তারা জানায়।

আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, মাদকের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স ভূমিকা পালন করছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক এবং স্কুল-কলেজগুলোতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। যে কোনো মূল্যে মাদক পাচার চক্রকে নির্মূল করতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরো জানান, গত বছরে থানায় মাদক উদ্ধারের মামলা হয়েছে ২০৬টি।