তালায় লুৎফর নিকারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধূম্রজাল সৃষ্টি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ১৪:৫৪

তালায় লুৎফর রহমান নিকারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে  ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে রহস্যর জট খুলতে শুরু করেছে। একটি মহল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ঘটনাটি উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে জেল খাটছেন তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমান। এদিকে প্রাথমিক ময়না তদন্ত রিপোর্টে নিহতের শরীরে দৃশ্যত এবং ময়না তদন্তের সময় কাটার পর কোন মারপিটের কিংবা আঘাতের চিহ্ন পায়নি মেডিকেল টিম।

সরেজমিনে গেলে কয়েকজন জানান, তালা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা নলতা গ্রামের নলবুনিয়া বিলে প্রায় ১২০ বিঘা জমিতে একটি মাছের ঘের পরিচালনা করে আসছে সরদার মশিয়ার রহমান। উক্ত ঘেরে বিগত ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে জেয়ালা নলতা গ্রামের নিকারীপাড়ার লুৎফর রহমান নিকারীর পুত্র সেলিম নিকারী মাছ ধরছিলেন। ওই সময় মৎস্য ঘেরের কর্মচারীরা ঘের থেকে মাছ চুরির অভিযোগে সেলিম নিকারীকে আটক করে সামান্য মারপিট করে এবং ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমানকে খবর দেয়। এ সময় মশিয়ার রহমান তাকে ছেড়ে দিতে বলে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এদিকে ছেলে আটকের  খবর শুনে সেলিম নিকারীর পিতা লুৎফর নিকারী (৬৫) তাকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে প্রায় ৭০০ মিটর দূরে একটি ভেড়ির উপর পড়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তবে সেলিম নিকারীর দাবী, তিনি পার্শ্ববর্তী সরকারি খালে মাছ ধরছিলেন। তাকে চেয়ারম্যানের ঘেরের কর্মচারীরা আটক করে মারধোর করে। এ সময় তার পিতা লুৎফর নিকারীকে এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করা হয় এবং এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সেলিম নিকারী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে তালা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় সরদার মশিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মশিয়ারের পার্শ্ববর্তী আব্দুস সাত্তার সরদারের ঘেরের কর্মচারী হাজরাকাটী গ্রামের মাসুম সরদার ও সাজ্জাদ খাঁ জানান, মশিয়ার রহমানের ঘেরের কর্মচারীরা সেলিম নিকারীকে এখানে জাল ফেলতে নিষেধ করে। তখন তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা সেলিম নিকারী আটকে রাখে এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। এদিকে সেলিম নিকারী মাছ মারতে গিয়ে ধরা পড়েছে শুনে উক্ত ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পরে তার পিতা লুৎফর রহমান নিকারী ছুটে আসতে থাকে। পথিমধ্যে তিনি রুহুল আমিন নিকারীর ঘেরের পাশে ভেড়ির উপর পড়ে যান। এ সময় হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার সাথে কারও কোন মারপিটের ঘটনা ঘটেনি, এমনকি সেখানে মশিয়ার কিংবা তার ঘেরের কোন কর্মচারীরা উপস্থিত ছিল না বলে জানান তারা।

সরদার মশিয়ার রহমানের বড় ভাই সরদার গোলজার হোসেন জানান, ঐদিন রাতে ৭/৮ জন একসাথে মিলে তার ছোট ভাইয়ের ঘেরের মাছ লুট করতে আসে। এ সময় সেলিম নিকারীকে কর্মচারীরা আটক করলে বাকিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেলিম নিকারীর পিতা লুৎফর রহমান নিকারী ঐ রাতে হন্তদন্ত হয়ে ঘেরের দিকে আসার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাস্তার উপর পড়ে যান। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। মৃত লুৎফর রহমানের হার্টের অসুখ ছিল এবং নিয়মিত হার্টের ওষুধ গ্রহণ করতেন বলে জানান তিনি। 

এদিকে এ দুর্ঘটনা ও আবেগকে পুঁজি করে একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মশিয়ার রহমানসহ তিনজনকে আসামী করে একটি মামলা করে। উক্ত চক্র ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে উস্কানি দিচ্ছেন এবং এলাকা উত্তপ্ত করার পায়তারা করছেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তারা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার পায়তারা করছে। তিনি  উক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চান সংশ্লিষ্টদের কাছে।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সরদার জানান, মৃত অবস্থায় লুৎফর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিলনা। এদিকে নিহতের ছেলে সেলিম নিকারীকেও পরদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, নিহত লুৎফর রহমান নিকারীর শরীরে দৃশ্যত এবং ময়না তদন্তের সময় কাটার পর কোন মারপিটের কিংবা আঘাতের চিহ্ন পায়নি মেডিকেল টিম। তবে ময়না তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেতে মাস খানেক সময় লাগতে পারে। 

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, উক্ত ঘটনায় নিহতের ছেলে সেলিম নিকারী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় সরদার মশিয়ার রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

ইত্তেফাক/এমআর