বিদেশি নারী সেনা কর্মকর্তা সেজে ফেসবুকে প্রতারণা, ১৫ নাইজেরীয় গ্রেফতার

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ১৯:৫৯

প্রথমে বিদেশি নারী সেনা কর্মকর্তার ছবি দিয়ে ফেসবুক আইডি খুলে বাংলাদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে দামি উপহার দেয়ার কথা বলে কাস্টমস ছাড় করতে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছিলেন বিদেশি নাগরিকদের একটা চক্র। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। 

এরা সবাই নাইজেরিয়ার নাগরিক। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশে অবৈধভাবে থেকে তারা প্রতারণা করছিল। গ্রেফতারের পর সিআইডি দফতরে আনার পর তারা চিৎকার ও হিংস্রের আচরন করতে থাকে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সিআইডি পুলিশ কিছুটা বেগ পেতে হয়।  

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আমেরিকান নারী সেনা অফিসারের ভুয়া ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে। তারপর তারা টার্গেট পিপলকে আকর্ষিত করার জন্য তাদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এভাবে তারা সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটায়। তারপর এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রতারকরা  জানায়, তারা ইয়েমেন, আফগানিস্তান বা সিরিয়ায় আছে। তাদের কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলার আছে। সেখানে যুদ্ধ থাকায় ডলারগুলো নষ্ট হতে পারে। তাই বন্ধুকে উপহার পাঠাবে অথবা ডলারগুলো নিরাপদে রাখার জন্য পাঠিয়ে দেবে। যুদ্ধ শেষে যদি বেঁচে থাকে, তাহলে ডলারগুলো পুনরায় ফেরত নেবে। এ ছাড়া তারা কাপড় চোপড় বা দামি জিনিসপত্রও উপহার হিসেবে পাঠানোর কথা বলে। 

অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, এসব প্রলোভন দেখানোর পর তারা ওই সব দেশ থেকে পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ঠিকানা চায়। মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হতো, এয়ারলাইনসে গিফট প্যাকেটটি বুকিং দেওয়া হয়েছে। সেসব ছবিও পাঠাত তারা। এরপর ভিকটিমদের বলা হতো, এয়ারপোর্টে উপহার পৌঁছে গেছে। সে সময় সে সবের ছবিও বা ভিডিও দেখানো হতো। জানানো হতো, মালামাল কাস্টমসে রাখা আছে। আর এই সুযোগে পণ্য ছাড় করার জন্য ভ্যাট বাবদ বিভিন্ন ধাপে টাকা নিতে থাকত প্রতারকরা । এভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। 

তিনি  বলেন, এভাবে একজন সরকারি চাকরিজীবীসহ অসংখ্য লোকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এক সরকারি চাকরিজীবীর কাছে একই প্রক্রিয়ায় হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সোয়া ৫ লাখ টাকা। পরে ওই ভুক্তভোগী পণ্য না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হয়ে বিষয়টি সিআইডিকে জানান। পরবর্তী সময়ে আবার টাকা চেয়ে ফোন করলে সিআইডির একটি দল হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় ল্যাপটপ, মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী। 

শেখ রেজাউল হায়দার আরো বলেন, এ পর্যন্ত আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে দেখা গেছে, তারা ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে গিফট দেওয়ার নামে প্রতারণামুলকভাবে নিজ নিজ দেশের সহযোগী ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সদস্য।  

গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি ল্যাপটপ, ২২টি মোবাইল ও ৫টি হিসাবের ডায়েরি উদ্ধার করা হয় বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা। শেখ রেজাউল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আদালতে সোপর্দ করে করা হয়েছে। রিমান্ডের জন্য সোমবার আবেদন জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, এই চক্রের প্রতারণার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত চলছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলো এনজুবেচুকোউ এউগেন দারা (৩০), চুয়াউমা জন ওকেচুকোউ (৪০), উচেন্না দামিয়ান এমেইসিয়ানি (৩০), চিসম অ্যান্থনি একোয়েঞ্জি (৩৫), সাইমন ইফেচুকোউয়েদে ওকাফর (৩০), হেনরি ওসিতা ওকেচুকোউ (৩১), আইফিনয়ি জনপল চিনউইজে (৩২), ওকেকে পিটার (৩২), এমেকা দোনাতাস (৪৮), গোজি ওনইয়েদো (৪৭), পিটার চিকা আকপু (৪৮), ওবিন্না সানডে (৪০), এনওয়ান্না ইয়াং (৩৪), জেরেমিয়াহ চুকউদি এজেওবি (৩৪) ও স্টিফেন ওজিওমা ওবাইকোয়েজে (৩৪)। 

ইত্তেফাক/ইউবি