ক্ষতির মুখে মানিকগঞ্জের পান চাষীরা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ২০:২০

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পান চাষ বেশ পুরোনো। এই পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবার। চলতি বছর ভারি বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে জেলার হরিরামপুর উপজেলার চার হেক্টর জমির পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ২৫ জন কৃষকের ৩৪টি বরজে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে অন্তত কয়েক লাখ টাকার পান। 

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর, রামকৃষ্ণপুর ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ৫ দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে ৩৫ জন কৃষকের মোট ৪২টি পান বরজ রয়েছে। যার মধ্যে গোপীনাথপুর ইউনিয়নে এক হেক্টর জমিতে ৮টি বরজ করেছেন আটজন কৃষক। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চার হেক্টর জমিতে ৩৪টি বরজ করেছেন ২৫জন কৃষক এবং কানঞ্চনপুর ইউনিয়নের শূণ্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে ২টি বরজ করেছেন দুইজন কৃষক। যার মধ্যে শুধুমাত্র রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নেই ২৫ জন কৃষকের ৩৪টি বরজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে বেশ কয়েক টির অবকাঠামো সহ পানিতে ধ্বসে পড়ছে এবং বাকি গুলোর অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও সমস্ত পান গাছ পঁচে গেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর গ্রামের হোসেন আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সে ২৫ শতাংশ যায়গায় গয়াসী (মিষ্টি) পান চাষ করেছিলো। এবারের ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় তার পুরো বরজ কাঠামোসহ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে তার ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা ভালো করে ঠিক করতে তার প্রায় ২লক্ষ টাকা খরচ হবে। তাই তিনি সরকারের কাছে অল্প সুদে সহজ শর্তের ঋণের দাবি জানান।

এছাড়া রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরেক পান চাষি সুজন খান জানান, তার বড় ভাই আব্দুল মালেক খানের  সাড়ে তিন বিঘা জমিতে তিনটি পানের বরজের সবগুলো নষ্ট হয়ে প্রায় ৮/১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রতিনিধি এসে তাদের নাম ঠিকানা নিয়ে গেলেও   এখনো কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি। 

এবিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গফফার জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের সবজি বীজ দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসি