‘হোয়াইট টি’ কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৫০

কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসির) চাম্পারায় চা-বাগানে উত্পাদিত সিলভার নিডল গ্রেডের ‘হোয়াইট টি’র দাম ও কদর বেশি। প্রথমবারের মতো গত জুলাই মাসে মাত্র ১০ কেজি চা আন্তর্জাতিক নিলামে তোলা হয়। তখন এর দর ওঠে প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা। সবটুকু চা-ই বিক্রি হয়ে যায়।

চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, হোয়াইট টি উত্পাদনের জন্য বিশেষ যত্ন ও সতর্কতা প্রয়োজন। চা গাছের অগ্রভাগের শুধু কুঁড়ি সংগ্রহ করতে হয়। এই কুঁড়ি সংগ্রহ বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া সব স্থানে অগ্রভাগের কুঁড়ি পাওয়াও যায় না। কুঁড়ি সংগ্রহের পর বিশেষ ব্যবস্থায় সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এই চা উত্পাদন করা হয়। হোয়াইট টি নামে পরিচিত হলেও এই চায়ের রং পুরোপুরি সাদা নয়। এটি দেখতে অনেকটা গ্রিন টির মতো। হোয়াইট টি গরম পানিতে দেওয়ার পর রুপালি আভা দৃশ্যমান হয়। সিলেট অঞ্চলে সাদা চায়ের ভালো চাহিদা রয়েছে। কমলগঞ্জের চাম্পারায় চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, প্রথম বারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কেজি চা উত্পাদন করে ভালো দাম ও সাড়া পাওয়া গেছে। তবে এই চায়ের উত্পাদন খরচও বেশি। তিনি আরো বলেন, এই হোয়াইট টি উত্পাদনের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ) ড. মো. আব্দুল আজিজ বলেছেন, হোয়াইট টির জন্য চা গাছের কচি কুঁড়ি তুলে আনতে হয়। এই কুঁড়ি সংগ্রহ বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তারপর মেশিনারিজ ছাড়াই রুম টেম্পারেচারে দুই থেকে তিন দিনে শুকাতে হয়। সিলভার নিডেল গ্রেডের এই চা চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ানা প্রদেশে বেশি হয়। অন্য দিকে ইনস্টিটিউটের আরেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষি তথ্য বিভাগ) ড. মো. তৌফিক আহমদ জানান, এই চায়ের উত্পাদন ব্যয় বেশি। সরকার লাভজনক মনে করলে ভবিষ্যতে উত্পাদন বৃদ্ধির চিন্তা করতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব নেপাল, তাইওয়ান, উত্তর থাইল্যান্ড, দক্ষিণ শ্রীলঙ্কা ও ভারতে এই চায়ের চাষ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চায়ের বাজারে সাদা চা-কে এখনো চায়না হোয়াইট বা ফুজিয়ান হোয়াইট নামে আখ্যায়িত করা হয়। ন্যাশনাল টি কোম্পানির কমলগঞ্জের ডিজিএম মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আপাতত চাম্পারায় চা-বাগানেই হোয়াইট টি উত্পাদনের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী সময়ে এর পরিসর আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।