পাঁচ মাস পর পর্দা উঠল মঞ্চ নাটকের

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৩

সর্বশেষ মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে মঞ্চ নাটক দেখেছে ঢাকার দর্শক। তারপর করোনাকালের সব মঞ্চ বন্ধই রয়েছে। এখনো মঞ্চগুলো না খুললেও গতকাল মঞ্চস্থ হলো একক নাটক। করোনাকাল বলেই একক নাটক নিয়ে মঞ্চে এলো শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটার। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো মোমেনা চৌধুরী অভিনীত একক নাটক ‘লাল জমিন’।

এই মঞ্চাভিনেত্রীর নিজ উদ্যোগেই শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটার প্রযোজিত প্রযোজনাটির ২৪৪তম প্রদর্শনী হয়। করোনাকালে নিউ নরমাল লাইফের বাস্তবতা মেনেই পরিবেশিত হয় মুক্তিযুদ্ধের গল্পনির্ভর এ নাটকটি। আর এই প্রদর্শনীর সুবাদে একইসঙ্গে উজ্জীবিত হয়েছে নাট্যকর্মীসহ মঞ্চ নাটকের দর্শকবৃন্দ।

এই নাট্য প্রদর্শনীতে ২৪২ আসনের মহিলা সমিতি মিলনায়তনের এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা হয়েছে। দুই সিট পর পর ছিল দর্শকের আসন। মিলনায়তনে প্রবেশের আগে মেপে নেওয়া হয়েছে দর্শকের শরীরের তাপমাত্রা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্যানিটাইজিংসহ জীবাণুনাশকের ব্যবস্থাও রাখা ছিল।  

মহামারিকে সঙ্গী করে নাট্য মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে মোমেনা চৌধুরী জানান, পাঁচ মাস অলস সময় কাটালাম। আর কত? অথচ অনেক আগে থেকেই গার্মেন্টস চলছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলেছে। রেস্তোরাঁগুলোয় মানুষের ভিড় বেড়েছে। করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের বাঁচতে হবে।

মান্নান হীরা রচিত ‘লাল জমিন’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রযোজনাটিতে উঠে এসেছে তের পেরিয়ে চৌদ্দ ছুঁই ছুঁই এক কিশোরীর গল্প। কিশোরীর চোখ জুড়ে  রয়েছে লাল পদ্মের জন্য ছায়াপ্রেম। এক মধ্যরাতে সে শুনতে পায় বাবা-মায়ের গুঞ্জন। অগোচরে যুদ্ধে চলে যায় বাবা। কিশোরীও নানা কৌশলে যুদ্ধের আয়োজন করে। কিন্তু বয়স তাকে দেয় না অনুমোদন। এবার কিশোরীর সেই ছায়া-প্রেম দাঁড়ায় সম্মুখে, সে চিনতে পারে তার সেনাপতিকে। তারপর যুদ্ধযাত্রা। লক্ষ্যে পৌঁছুবার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা কেউ শহিদ হন, কেউ নদীর জলে হারিয়ে যান। পাঁচ যুবতিসহ যুদ্ধযাত্রী এই কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা অভিজ্ঞতা। চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদা জমিন যুদ্ধকালীন ৯ মাসে রক্তরাঙা হয়ে ওঠে। এই কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী নাট্যপ্রকাশ হয়ে ওঠে ‘লাল জমিন’।