রাহাত খান আর নেই

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ০০:২৯

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি নানা বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। রাহাত খানের স্ত্রী অপর্ণা খান জানান, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাহাত খানের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।’

রাহাত খানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন।  এছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম এই স্বনামধন্য সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রাহাত খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে আরো বিবৃতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।

দীর্ঘদিন ধরে হূদেরাগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন রাহাত খান। গত ২০ জুলাই তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর আগের দিন বাসায় খাট থেকে নামতে গিয়ে কোমরে ব্যথা পান তিনি। এরপর চিকিত্সকের পরামর্শে এক্স-রে করা হলে পাঁজরে গভীর ক্ষত ধরা পড়ে। এর পাশাপাশি তার শ্বাসকষ্ট ছিল। অপারেশন করা যাচ্ছিল না বলে পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাহাত খান দেশের একজন খ্যাতিমান কথাশিল্পী। ছোট গল্প ও উপন্যাস উভয় শাখাতেই তার অবদান উল্লেখযোগ্য। কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত হলেও কর্মসূত্রে রাহাত খান আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকা। সর্বশেষ তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

রাহাত খান ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামের খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে রাহাত খান কিছুদিন বিমা কোম্পানিতে চাকরি করে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে যোগদান করেন। তারপর একে একে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৬৯ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা জীবনের হাতেখড়ি। পরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে যোগদান করেন।

১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অনিশ্চিত লোকালয়’ প্রকাশিত হয়। তার উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—অমল ধবল চাকরি, ছায়াদম্পতি, শহর, হে শূন্যতা, হে অনন্তের পাখি, মধ্য মাঠের খেলোয়াড়, এক প্রিয়দর্শিনী, মন্ত্রিসভার পতন, দুই নারী, কোলাহল ইত্যাদি। একুশে পদক ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩), সুফি মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২), ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেছেন।

এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাহাত খানের মরদেহ আজ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হবে। এই কৃতী সাংবাদিক-লেখকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাংলা একাডেমিতে। পরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।