এক বছর বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গতকাল শুক্রবার চালু হয়েছে থ্রিজি-ফোরজি সেবা। অপরাধমূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গারা যাতে মোবাইল ফোনের সুবিধা না পায়, সে কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে মোবাইল অপারেটর রবির হেড অব রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম জানান, গতকাল সকালে বিটিআরসি থেকে নির্দেশনা পাবার পরপরই আমরা থ্রিজি-ফোরজি চালু করেছি। গতকাল সকাল ১০টা থেকে গ্রাহকরা এ সেবা পাওয়া শুরু করেছেন।
এর আগে গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এটা চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইত্তেফাক-কে বলেছিলেন, ‘কূটনীতিকরা এসে ধরছেন যে, তারা সেখানে কাজ করেন। অথচ থ্রিজি-ফোরজি না থাকায় তাদের সমস্যা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও চাচ্ছে যেন খুলে দেওয়া হয়। তাই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছি।’ বন্ধের সময় তো জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছিল? এখন কি তাহলে নিরাপত্তা সমস্যা নেই? জবাবে তিনি বলেন, ‘সবাই যেহেতু চাচ্ছেন খুলে দেওয়া হোক তাই এই সিদ্ধান্ত।’ প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে তার সিদ্ধান্তেই এটা বন্ধ হয়েছিল।
কয়েক দিন আগে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এক ওয়েবিনারে বলেছেন, শিগগিরই রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থ্রিজি-ফোরজি চালু হবে।
জানা গেছে, দেশের নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেদারসে মিয়ানমারের সিম বিক্রি হয়। কারণ মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি টেকনাফ-উখিয়া এলাকায় পাওয়া যায়। ঐ দুই উপজেলায় দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের ৬০টির মতো টাওয়ার রয়েছে। এগুলোতে এতদিন থ্রিজি-ফোরজি বন্ধ ছিল।
বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার হাতে থাকা অবৈধ মোবাইল সিম দিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ঐ এলাকায় থ্রিজি-ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
