কার ভুলে কে দেয় খেসারত, শেষ বয়সেও জোটেনি বয়স্ক ভাতা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ১৮:৫৩

কার ভুলে কে দেয় খেসারত! ভুলে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কমিয়ে দেওয়ার কারণে জীবনের শেষ বেলাতেও বয়স্ক ভাতা কপালে জোটেনি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কিসামত হাবু গ্রামের আবুল হোসেন এবং আব্দুস সোবহানের। আবুল হোসেন আর আব্দুস সোবহানের আক্ষেপ জীবন থেকে তাদের ২০ বছর কেড়ে নিয়েছে। আর এ কারণেই তারা আজও বয়স্ক ভাতা পায়নি।

আবুল হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ৩ মে ১৯৫৩ সাল। বর্তমানে তার বয়স ৬৭ বছর। বয়স কম লেখার কারণে এতদিন পর্যন্ত তিনি বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদনও করেননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যার বাপের বিয়ে খাইলাম সেই ছেলে বয়স্ক ভাতা পায় আর আমি পাই না। ছকিমুদ্দি,নয়া মিয়া আমার বয়সের চেয়ে কত কম। নাতি-পুতির বিয়া খাইলাম। এলাও বলে হামার বয়সে হয় নাই। তিনি বলেন তার বয়স এখন নব্বই এর উপরে। এখন তার শেষ বেলা। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে । চামড়া হয়েছে ঢিলে। দৃষ্টিশক্তি কমেছে। যেদিন এসব তথ্য লিখে নিয়ে যায়, সেদিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এদিকে সোবাহানের অবস্থা একই। তারও জীবন থেকে ২০টি বছর কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রে তার বয়স দেখানো হয়েছে ২৫ জুন ১৯৬০ সাল। অথচ তার বয়স ৮০ বছরের উপরে। জীবনের শেষ বেলাতেও তারা যেন একটি বয়স্ক ভাতা কার্ড পায় এটাই তাদের দাবী এবং শেষ ইচ্ছা।  

আরো পড়ুনঃ এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে গুজবে বিশ্বাস না করার আহ্বান মন্ত্রণালয়ের

শুধু আবুল হোসেন কিংবা আব্দুস সোবহান নয় এরকম অনেকে আছেন যাদের প্রকৃত বয়স অনেক বেশি। অথচ তাদের এখনো বয়স্ক ভাতা কার্ড পাওয়ার বয়স হয়নি। বাবার চেয়ে ছেলে বড়। কিংবা স্ত্রীর বয়সের চেয়ে স্বামীর বয়স কম। এরকম ভুল অনেক হয়েছে। আর এ রকম ভুলের কারণে অনেকে বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পুরুষদের জন্য ৬৫ বছর আর বিধবা ভাতা মহিলাদের জন্য ৬২ বছর লাগে।


ইত্তেফাক/এমএএম