‘সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মৃত্যু ২ লাখ ছাড়াতে পারে’

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৭

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারি

বিবিসি ও রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে দেশটির রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্র (সিডিসি)। বৃহস্পতিবার আগামী চার সপ্তাহের জন্য জাতীয়ভাবে দেশে কোভিড-১৯-এ মৃত্যুর পরিসংখ্যানের এই পূর্বাভাস দিয়েছে সিডিসি।

সিডিসির হিসাবমতে, ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন করে আরো ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তবে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হলে ঐ তারিখ নাগাদই মৃতের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৭ হাজার জনে। সিডিসি এর আগে গত সপ্তাহেও এসংক্রান্ত পূর্বাভাস দিয়েছিল। সে সময় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ৯০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর এই সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। আর আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছে ৫০ লাখের বেশি মানুষ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে নতুন ধরনের এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মানবদেহে ধরা পড়ে। খুব দ্রুত বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। পরে এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় নোভেল বা নতুন করোনা ভাইরাস। আর এই ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগের নাম দেওয়া হয় কোভিড-১৯। চীনে প্রথম মৃত্যুর দুই দিন পর ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে প্রথম রোগী ধরা পড়ার পর জানা যায়, চীনের রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে গেছে এই ভাইরাস।

তারপর হু হু করে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা, দেড় মাসের মধ্যে এন্টার্কটিকা বাদে সব মহাদেশেই ধরা পড়ে রোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখন এই পরিস্থিতিকে মহামারি বলে ঘোষণা করে। কঠোর লকডাউনে চীন তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও তত দিনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে রাশিয়ায় ব্যাপক মাত্রা পায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।

রয়টার্সের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জুন মাসেই টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০টি রাজ্যে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। আর জুলাইয়ের শেষেই যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃত্যু ১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়ায়।