ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিশারবাড়ী গ্রামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহর (৫০) বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, ‘কুফরির’ ভয় দেখিয়ে ফুসলিয়ে ঐ ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে ইমাম ওবায়দুল্লাহ। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ঐ কিশোরী। বিষয়টি টের পেয়ে ইমাম ভয় দেখিয়ে ট্যাবলেট খাইয়ে তার গর্ভপাত ঘটায় এবং ঐ এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ইমাম ওবায়দুল্লাহর বাড়ি নাছিরনগর উপজেলার বড়নগর গ্রামে। এদিকে লম্পট ইমামের সমর্থকরা সালিশ বসিয়ে সমাজচ্যুত করেছে ঐ কিশোরীর পরিবারকে।
মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা নিতে পুলিশ বিলম্ব করায় কিশোরীর পিতা ন্যায়বিচারের আশায় গত ৯ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে মামলা করেন। আদালত পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার জানান, গত ২৩ আগস্ট মামলার নথি ও নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। পিবিআই পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আলহাজ তৌফিক আহাম্মদ জানান, গ্রামের কিছু মাতবর লম্পট ইমামের বিচার না করে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে এবং ঐ কিশোরীর পরিবারের ওপর দোষ চাপিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করেছে। যুবলীগ নেতা ফোরকান ও গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলমও বিষয়টির নিন্দা করেন।
ধর্ষিত ছাত্রীর পিতা জানান, আমাকে সমাজচ্যুত করায় কোনো কাজকর্ম করতে পারছি না। মানবেতর জীবন যাপন করছি। নিরুপায় হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছি।
এ বিষয়ে অভিযু্ক্ত ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নাম্বার ০১৭২৬৬৮৮৭৫১-এ বারবার ফোন করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ওসি লোকমান হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলবেন না বলে জানান। সহকারী পুলিশ কমিশনার (কসবা সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার হাতে আসেনি। আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ইমামসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
