দেশে শ্রমিকের পাওনা আদায়ে ইউরোপে মানববন্ধন

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৫০

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর মালিবাগের ড্রাগন গ্রুপের একাধিক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই ও পাওনা ইস্যু নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে অসন্তোষ চলে আসছে। সর্বশেষ গত সোমবারও রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল শ্রমিকরা। এরই মধ্যে দাবি আদায়ে ভিন্ন পথে হাঁটছে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো। ড্রাগনের আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান (বায়ার) ও ব্র্যান্ডের দোকানের সামনে শ্রমিক ছাঁটাই ও পাওনা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউরোপের একাধিক দেশে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। জার্মানির হামবুর্গ ছাড়াও একাধিক শহর এবং আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও ব্রাজিলেও তারা জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, নিউইয়র্কার, ওয়ালমার্ট, লিডলের মতো ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করে ড্রাগনের কারখানাগুলো। এসব ব্র্যান্ডের খুচরা দোকানের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন দেশের শ্রমিক প্রতিনিধিরা এই প্রতিষ্ঠানের কারখানাগুলোর ‘অবৈধ শ্রমিক ছাঁটাই’ বন্ধ করা ও পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। দেশে ড্রাগনের শ্রমিকের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনটি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইউনিয়ন্সের আওতাভুক্ত। জানা গেছে, এই সংগঠন থেকেই মূলত ড্রাগনের শ্রমিকদের পাওনা আদায় ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ বাড়ানো হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মইন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা বাধ্য হয়েছি আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে বলতে যাতে বায়ারকে চাপ দেয়।

তবে দেশের শ্রমিককদের পাওনা সংক্রান্ত ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গণে টেনে নেয়ার বিষয়টি নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এতে ব্র্যান্ডদের পাশাপাশি সার্বিকভাবে দেশের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারকদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মঞ্জুর মইন বলেন, শ্রমিক পাওনা না পেলে রপ্তানিকারককে কেন তারা বলছে না। এজন্য ব্র্যান্ডগুলোও দায়ী। কারন এখানে শ্রমিক বঞ্চিত হওয়ার সুবিধা নিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো। এ বিষয়ে জানতে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোন তথ্য কিংবা বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।