পায়রা-লোহালিয়া নদীতে নাব্য সংকট আভ্যন্তরীণ নৌ-যান চলাচল বিঘ্নিত

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৯

দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে নাব্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নদীর বাঁকে বাঁকে অসংখ্য চর ও ডুবোচর জেগে ওঠায় নদীর অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আভ্যন্তরীণ নৌ-রুটসহ বিভিন্ন প্রকার নৌ-যান চলাচল। একই সঙ্গে লেবুখালী ফেরি পারাপারেও দেখা দিয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। লেবুখালী ফেরিঘাটের উত্তরপাড় পন্টুসহ আশ-পাশে জেগে ওঠা বিশাল বিশাল ডুবোচরে ঠেকে যাওয়ায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, জেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদীর বাঁকে বাঁকে বিশাল বিশাল চর ও বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় নদী দুইটির অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। এককালের বিশাল আকৃতির পায়রা ও লোহালিয়া নদী চর জেগে এখন ক্ষীণ হয়ে গেছে। বরিশালের দক্ষিণ উপজেলা বাকেরগঞ্জের সীমান্ত ও পটুয়াখালীর প্রবেশদ্বার দুমকি উপজেলার পূর্ব-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত পায়রা ও লোহালিয়া দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দুটি নৌ-পথ নাব্য সংকটে পড়ে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। চর-ডুবোচর জেগে ওঠায় এ দু’টি রুটের নৌ-যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। পায়রা নদীর নাব্য হারানোর কারণে বাকেরগঞ্জ হয়ে কর্ণকাঠী দিয়ে বরিশালের নৌ-রুট ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। পায়রার নৌ-রুট পরিবর্তিত হয়ে দুমকির উত্তরে পান্ডব নদী দিয়ে তেঁতুলিয়া ঘুরে ঢাকা-বরগুনার আভ্যন্তরীণ নৌ-যান চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

অপরদিকে রাজধানীর ঢাকা টার্মিনাল থেকে বাকেরগঞ্জের কারখানা নদীর সংযোগ ঝিলনা-বগা-পটুয়াখালী-গলাচিপা রুটের লোহালিয়া নদীটি দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র নৌ-রুট। সামপ্রতিককালে প্রধান নৌ-রুটের এই লোহালিয়া নদীটির বাঁকে বাঁকে বিশাল চর জেগে ওঠায় সরু হতে হতে এখন নৌ-যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পটুয়াখালীর উত্তরে দুমকি ও বাউফল উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত লোহালিয়া নদীর ঝিলনা, সন্তোষদি, চরগরবদি, বাবনিকাঠী, পালের ডাঙ্গা এলাকায় দুই তীরে বিশাল বিশাল চর জেগে লোহালিয়া নদী আস্তে আস্তে ক্ষীণ হতে চলেছে। এ দু’টি নৌ-রুটে ছোট ছোট নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও মালবাহি কার্গো, কন্টেইনার ও বড় আকৃতির ভারী নৌ-যান চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করেই ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের ডাবল ডেকার লঞ্চগুলোকে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাটার সময় প্রায়শই এসব যাত্রী বোঝাই লঞ্চগুলো ঝিলনার চরে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে যে কোনো সময়ে এ নৌ-রুট দুটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাব্য সংকটের কারণে নৌ-রুটের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগও হুমকির মুখে রয়েছে। বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী ফেরিঘাটের পায়রা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠায় ফেরি পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ারের সময় ফেরি পন্টুনে ভেরাতে পারলেও ভাটার সময় দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। খালি ফেরি কোনোক্রমে পন্টুনে ভেড়ানো সম্ভব হলেও ৩/৪টি বাস-মিনিবাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ওঠানো হলেই ফেরি চরে ঠেকে যায়। যানবাহন বোঝাই ফেরি একবার আটকে গেলে তা পার হতে ২/৩ ঘণ্টাও লেগে যায়। অনেক সময় জোয়ারের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়ে। এতে দূরপাল্লার পরিবহন যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এ ছাড়া মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্স আটকে গেলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। ভয়াবহ নাব্য সংকটের কারণে এ দু’টি রুট সচল রাখতে শীঘ্রই ড্রেজিং অত্যাবশ্যক। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা না হলে এ দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই।

পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্মকর্তা খাজা সাদিকুর রহমান জানান, নাব্য ফেরাতে লাউকাঠী নদীতে ড্রেজিং করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও ড্রেজিং করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল হওয়ায় কাজটি নির্ভর করে অর্থবরাদ্দের উপর।