পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতে জেলেদের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমের অর্ধেকটা সময় এসে জেলেরা গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠবেন বলে আশার আলো দেখছেন। এবছর দুই কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছে বন বিভাগ।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলারচর থেকে ফিরে বলেন, প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় সাগরে মত্স্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের মৌসুম শুরু হয়। গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় এবার চার সপ্তাহ দেরিতে ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে শুঁটকিকরণের মৌসুম। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় সাগরে জেলেরা প্রচুর মাছ ধরে শুঁটকি করতে পারায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
এভাবে মৌসুমের বাকিটা সময় আবহাওয়ার পরিবেশ ঠিক থাকলে জেলেরা গত বছরের তাদের বিরাট অংকের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা যায়। তবে মেহের আলীর চরে ৩২ বছর আগে মেজর জিয়ার খননকৃত সাগর দীঘি নামের খাবার পানির বড় জলাধারটি বঙ্গোপসাগরের ভাঙনকবলিত হয়েছে। ফলে সুপেয় পানির সংকটে পড়ায় এ চরে জেলে আগমন হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি এ চরের সাইক্লোন শেল্টারটিও যে কোনো সময় সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
জেলে পল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. রেজাউল হক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দুবলারচরের বিভিন্ন পল্লীতে এ বছর শুঁটকি উত্পাদন ভাল হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল, খুলনার দাকোপ, কয়রা, ডুমরিয়া ও পাইকগাছা, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, সদর ও ইন্দুরকানি, বরগুনার পাথরঘাটাসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার জেলে ও মত্স্য ব্যাবসায়ী পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচরের মাঝেরচর, মেহের আলীর চর, জামতলা, আলোরকোল, মরণের চর, শেলারচর ও নারকেলবাড়িয়ার চরে এসে সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের কাজ করছেন।
পূর্ব সুুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, জেলেদের জন্য এবার দুবলার চর ও সন্নিহিত বনভূমিতে ১ হাজার ২৫টি জেলে ঘর ও জেলে-মহাজনদের জন্য ৪৮টি ডিপো ঘরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
