মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর রোড সংলগ্ন ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর পেকুয়া (ছাপড়া বাজার সংলগ্ন) গ্রামে আবাসিক এলাকার ভিতরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা পোল্ট্রি খামারের ময়লা-আবর্জনা ও বিষ্ঠার পচা দুর্গন্ধে পরিবেশ হুমকি ও দূষিত হচ্ছে। পোল্ট্রি খামারের পচা দুর্গন্ধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মরে যাচ্ছে গাছপালা, ফসলি জমি ও আশ-পাশের পুকুরের মাছ। এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়েছে নানা রোগ-বালাই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ১৩নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টনের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উত্তর পেকুয়া গ্রামের তনু মিয়ার ছেলে মতিয়ার রহমান, ইন্তাজ আলীর ছেলে মো. বাবুল মিয়া ও মতিয়ার রহমানের ছেলে সোহেল মিয়া সরকারি অনুমোদন ছাড়াই উত্তর পেকুয়া গ্রামের (ছাপড়া বাজার সংলগ্ন) আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে একটি পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে নজরুল ইসলাম, লাল খান, ডা. মজিদ ও মাহফুজসহ অনেকেই বলেন, আবাসিক এলাকার মধ্যে এই চক্রটি জোরপূর্বক পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কোনো অনুমোদনপত্র (ছাড়পত্র) নেওয়া হয়নি। পোল্ট্রি খামারের বিষ্ঠা, ডিমের খোসা, পায়খানা ও ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পরে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ময়লার পচা আবর্জনা আশ-পাশের পুকুরের পানিতে মিশে দুর্গন্ধে মরে যাচ্ছে মাছ। এ ছাড়া দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পুড়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল, শাক-সবজি ও মরে যাচ্ছে গাছপালা।
পোল্ট্রি খামারের মালিক মো. বাবুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কোনো ছাড়পত্র (অনুমোদনপত্র) আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর এমনকি কোনো বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি। কাগজপত্র চাওয়া হলে তিনি সংবাদ কর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত হন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে যোগাযোগ করা হলে অফিস সূত্র জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পোল্ট্রি খামারের মালিক ও এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। অচিরেই সমস্যার সমাধান করা হবে।
