‘পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নাই, সবকিছুই আগুনে পুড়ে ছাই ’

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:১৬

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে নগদ টাকা, একটি বীজের গুদাম, বসত বাড়ির ৮টি কক্ষের আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হাবিবুর রহমান মিন্টুর স্ত্রী রুনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পড়নের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই নাই। সবকিছুই আগুনে পুড়ে ছাই। আমরা এখন সর্বশান্ত।’ 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার সুখিয়া বাজারের উত্তর পাশে বড় আজলদী গ্রামের শহীদ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।  

এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে সুখিয়া বাজারের উত্তর পাশে শহীদ মিয়া ও তার দুই ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টু ও কৃষক বীজ ভাণ্ডারের মালিক জমাত উল্লাহর বসত বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় হাবিবুর রহমান মিন্টুর বসতঘরের ৪টি কক্ষে আগুন লেগে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ তিন লাখ টাকা, জমির দলিলাদি, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও যাবতীয় আসবাবসহ ঘরে থাকা সম্পূর্ণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় জমাত উল্লাহর কৃষক বীজ ভান্ডারসহ বসত ঘরের ৪টি কক্ষেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৬ লাখ টাকার বীজ, নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ ঘরে থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বড় ভাই শহীদ মিয়া জানান, ‘অগ্নিকান্ড আমাদের তিন ভাইয়ের বাড়িঘর, বীজগুদামসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমাদের কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার দুই ভাই একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।’ 

পাকুন্দিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান সাদেকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 

ইত্তেফাক/এমএএম