ব্যাংক এমডিদের প্রতি গভর্নর

অক্টোবরের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের সব ঋণ ছাড় না হলে ব্যবস্থা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৩০

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঘোষিত সব ঋণ আগামী অক্টোবরের মধ্যে ছাড় করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা তা করতে পারবে না তাদেরকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। গতকাল বুধবার বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন ব্যাংকের এমডি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন।

এমডিদের উদ্দেশে গভর্নর বলেছেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সারা দেশে টাকার প্রবাহ বাড়াতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বহুমুখী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। তারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্রণোদনার আওতায় ঋণ বিতরণের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে কারা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে পারবেন না, এখনই বলেন। পরে নির্ধারিত সময়ে ঋণ বিতরণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ব্যাংকের এমডিরা।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণের বিষয়গুলো এখন কঠোরভাবে তদারক করা শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। কোন অনিয়ম বা শৈথিল্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনার প্রভাব মোকাবিলা করতে সরকার ইতিমধ্যে ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব প্যাকেজ বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ৩১ আগস্ট। এ সময়ের মধ্যেই প্যাকেজ থেকে নামমাত্র অর্থ বিতরণ হওয়ায় সময়সীমা আরো দুই মাস বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর করা হয়।

জানা গেছে, বড় শিল্প ও সেবা খাতে ৩৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্যাকেজের প্রায় ৭১ শতাংশ অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ এ খাতে প্যাকেজ বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৭ শতাংশ। এছাড়া প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় অন্যান্য খাতেও ঋণ বিতরণ খুব কম হয়েছে।